আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘের প্রকাশিত বক্তৃতা সূচি থেকে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে শাহের প্রথম বিদেশ সফর। গত ২৭ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে যাচ্ছেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এবারের জাতিসংঘ সফরে নেপালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে সম্প্রতি দেশটিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস। ভয়াবহ ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৩শ’ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ।
প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেপালের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের। তবে গত ২৬ আগস্ট, দেশের উত্তরাঞ্চলীয় হিমালয় এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
ওই দুর্যোগে হিমবাহ ধসে এবং ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে নদী তীরবর্তী বহু জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগের ভয়াবহতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতেই সরাসরি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহ। একইসঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইবে নেপাল।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শাহের সফরের প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে শাহের আগে নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধি দলের সদস্যসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম রাখা হবে। সফরটিও হবে সংক্ষিপ্ত। সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শাহের।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই আয়োজনে যোগ দেন।
নেপালও নিয়মিতভাবে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, পাহাড়ি ও পার্বত্য প্রতিবেশব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশটি।
এবার ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর সেই আহ্বান আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়াই প্রধানমন্ত্রী শাহের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হতে পারে।

