লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুরোনো বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢাললেন পিয়ার্স মরগান। ব্রিটিশ এই সাংবাদিকের দাবি, মেসি নয় বরং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই তারকার গোলের পরিসংখ্যান। এনডিটিভির প্রতিবেদন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মেসির অবসরের খবর নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন মরগান। পোস্টে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে ১২৫ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
এরপরই রোনালদোর পরিসংখ্যান সামনে এনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মরগান। পর্তুগালের হয়ে ১৪৬ গোল করা রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দুই তারকার শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্কেরও নাকি এখানেই ইতি।
মরগানের ভাষায়, ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ১৪৬ গোল করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় – এ নিয়ে যে বিতর্ক, এটি সেটিরও নিষ্পত্তি করে দিয়েছে।’
রোনালদোর সঙ্গে মরগানের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। পর্তুগিজ তারকার সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কারণে মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের ‘GOAT’ বিতর্কে মরগানের মন্তব্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত অবশ্য অন্য কারও মন্তব্যে নয়, নিজেই জানিয়েছেন মেসি। ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিখেছেন, ‘শেষ ম্যাচের পর থেকে এতটা সময় পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভেবে-চিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, জাতীয় দলের হয়ে খেলা থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নিজের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, সেটিও স্পষ্ট করেছেন মেসি। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল একটি বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত, যা এখনো আমাকে ভেতর থেকে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময়টা এসে গেছে।’
আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তার ভাষায়, ‘আমি ওয়াদা করে বলতে পারি, আমি সবসময় আমার সর্বস্ব দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয়, যখন আমরা সবকিছু অর্জন করেছি; তার আগেও আমি এই দেশের জন্য সবসময় লড়েছি এবং নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। ফুটবলের মাধ্যমে তোমাদের খুশি করতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত বোধ করাতে আমি সবসময় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।’ মেসির অবসরের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ হলো ২১ বছরের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়।

