spot_img

প্রেশার কুকার ব্যবহারে এই ভুলেই ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপদ

অবশ্যই পরুন

দ্রুত রান্নার জন্য প্রেশার কুকার এখন অনেক পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী। এতে কম সময়ে খাবার রান্না করা যায়, পাশাপাশি সাশ্রয় হয় গ্যাস ও শ্রম। তবে ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতা থেকেও ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকারের যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি ভুল ব্যবহারের কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রেশার কুকার ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।

অতিরিক্ত খাবার দিয়ে কুকার ভরা
প্রেশার কুকারে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার ভরা উচিত নয়। সাধারণভাবে কুকারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভর্তি করা ঠিক নয়। ডাল, স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে আরও কম পরিমাণে খাবার রাখা ভালো।

এ ধরনের খাবার রান্নার সময় ফেনা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত ফেনা কুকারের নিরাপত্তা ভালভ বা বাষ্প বের হওয়ার পথ আটকে দিতে পারে। আবার পর্যাপ্ত পানি ছাড়া রান্না করলে কুকার অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পুরোনো গ্যাসকিট ব্যবহার
অনেকেই দীর্ঘদিন একই রবার বা গ্যাসকিট ব্যবহার করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গ্যাসকিট শক্ত, ফেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে কুকারের চাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। তাই গ্যাসকিটের অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা জরুরি। একইভাবে হুইসল বা সিটিও ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত।

চাপ থাকা অবস্থায় ঢাকনা খোলা
রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কুকারের ঢাকনা খোলার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। রান্নার পর কুকারের ভেতরে থাকা বাষ্প ও চাপ স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার জন্য সময় দিতে হবে।

চাপ পুরোপুরি কমার আগে জোর করে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করলে গরম বাষ্প বা খাবার ছিটকে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই কুকারের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চাপ কমার পরই ঢাকনা খোলা উচিত।

কুকার থেকে পানি বা বাষ্প অস্বাভাবিকভাবে বের হওয়া
রান্নার সময় কুকার থেকে পানি বা বাষ্প অস্বাভাবিকভাবে বের হতে থাকলে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। কুকার ঠান্ডা হওয়ার পর কারণটি পরীক্ষা করা উচিত। গ্যাসকিট, ঢাকনা বা অন্য কোনো অংশে সমস্যা থাকলে সেটি ঠিক না করে আবার ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

একই সমস্যা বারবার দেখা দিলে কুকারটি মেরামত না করা পর্যন্ত ব্যবহার না করাই ভালো।

হুইসল ও বাষ্প নির্গমনের পথ অপরিষ্কার রাখা
প্রেশার কুকারের হুইসল ও বাষ্প বের হওয়ার পথ নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। খাবারের কণা বা ময়লা জমে এসব পথ বন্ধ হয়ে গেলে কুকারের ভেতরে চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর কুকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখা উচিত। পাশাপাশি গ্যাসকিট, হুইসল ও নিরাপত্তা ভালভ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

প্রেশার কুকার রান্নার সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচায়। তবে নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কুকার অতিরিক্ত ভর্তি না করা, পুরোনো গ্যাসকিট ব্যবহার না করা, চাপ থাকা অবস্থায় ঢাকনা না খোলা এবং বাষ্প নির্গমনের পথ পরিষ্কার রাখার মতো বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি। সামান্য সতর্কতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

নেপালের টানেল থেকে বন্যার ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

নেপালের ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর একটি টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ