spot_img

চাঁদে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের রকেট

অবশ্যই পরুন

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন-৯ রকেটের একটি অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বুধবার (৫ আগস্ট) মহাকাশে এক বছরেরও বেশি সময় ভেসে থাকার পর রকেটটির প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের অংশ চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।

বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছিলেন, ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বা শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানতে পারে রকেটটি। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি বুধবার বিকেল নাগাদ চাঁদে আঘাত হানার কথা ছিল।

এই সংঘর্ষে প্রায় তিন টন টিএনটির সমপরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এর ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে ঘটনাটি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সংঘর্ষের সময় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন দেখতে পাননি। ঘটনাটি নিশ্চিত করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধ্বংসাবশেষ ওপরে উঠে যেতে পারে। নাসার লুনার রিকনেসাঁ অরবিটার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংঘর্ষস্থলের ছবি তুলবে। এর মাধ্যমে সংঘর্ষের প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ফ্যালকন-৯ রকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চাঁদে দুটি লুনার ল্যান্ডার পাঠানোর একটি অভিযানে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। রকেটটির কোনো অংশেরই চাঁদে আছড়ে পড়ার কথা ছিল না।

রকেটের নিচের অংশটি, যা উৎক্ষেপণের সময় ল্যান্ডার দুটিকে গতি দিয়েছিল, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে। তবে ল্যান্ডারগুলোকে চাঁদের দিকে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত রকেটের ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়।

নাসার বিজ্ঞানবিষয়ক পরিচালক ও স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযান কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়ানা শেইমান জানান, সৌর কার্যকলাপ ও মহাকর্ষীয় শক্তির সম্মিলিত প্রভাবে রকেটের ওই অংশের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণার প্রাকপ্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওয়্যার্ড জানিয়েছে, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের মেঘ প্রায় ১১৪ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

এদিকে নাসা জানিয়েছে, এই সংঘর্ষ পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করেনি। তবে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণের কাজে রকেটের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সংঘর্ষস্থল পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ চাঁদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল উইগার্ট বলেন, চাঁদে কোনো বস্তু আছড়ে পড়লে গর্ত তৈরি হয় এবং সেখান থেকে পদার্থ ছিটকে যায়। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বিস্তারিত জ্ঞান এখনও সীমিত।

সর্বশেষ সংবাদ

জাপানের বিরুদ্ধে ‘সামরিক পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তির পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ