spot_img

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর সংকটে ইনফান্তিনো

অবশ্যই পরুন

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিজের অবস্থান শক্ত করতে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংকটকালীন বৈঠকে বসছেন তিনি। খবর, রয়টার্সের।

বুধবার (৫ আগস্ট) মরক্কোর সালেতে ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে এই বৈঠকে বসেন ফিফা সভাপতি।

এর আগে, গত সপ্তাহে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের কাছে নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন ইনফান্তিনো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার কথা ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও পরিকল্পনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।

তীব্র সমালোচনার মুখে গত শুক্রবার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন ইনফান্তিনো। তবে তাতেও সমালোচনা থামেনি। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা অভিযোগ করেছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফুটবলের মূল চেতনাকেই বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মাত্র দুই মাস আগেও তার পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে, এখন তা পড়েছে শঙ্কার মুখে। ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশনও তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।

শুধু বাইরের সমালোচনাই নয়, ফিফার ভেতর থেকেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে ‘দুঃখজনক ও নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করেননি।

ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও দাবি করেছেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল এবং এটি মূলত একজন ব্যক্তির উদ্যোগ ছিল। ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারও জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি তৈরির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না এবং সেটি প্রত্যাহার করা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ছিল।

সাবেক পর্তুগিজ তারকা লুইস ফিগোও ইনফান্তিনোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ফিফায় পরিবর্তন আনতে হলে ইনফান্তিনোকে সভাপতির পদ ছাড়তে হবে। উয়েফার ভাইস প্রেসিডেন্ট লরা ম্যাকঅ্যালিস্টারও বলেছেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে।

বুধবারের বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত অন্তত ইনফান্তিনোর অবস্থান টিকিয়ে রাখা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৪৩টি বা তার বেশি সদস্য দেশ লিখিতভাবে আবেদন করলে জরুরি কংগ্রেস ডাকা সম্ভব।

এদিকে, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার, কুয়েত, লেবানন, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। ফিলিপাইন ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাতিল হলেও ২১১টি সদস্য দেশের জন্য বাণিজ্যিক ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে।

ইনফান্তিনোর পক্ষে আফ্রিকার কয়েকজন প্রভাবশালী ফুটবল কর্মকর্তাও সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন। তবে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের নির্বাহী কমিটিও আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে বৈঠক করবে।

তবে ইনফান্তিনোর জন্য বড় সুবিধা হলো— আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে চ্যালেঞ্জ করার মতো শক্তিশালী কোনো প্রার্থী এখনো সামনে আসেননি। এরই মধ্যে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন হুসেইন ফিফার বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, ইনফান্তিনোকে সমর্থনের বিনিময়ে কিছু সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা আগে ইনফান্তিনোকে সমর্থন করেননি এবং এখনো করবেন না।

সর্বশেষ সংবাদ

জাপানের বিরুদ্ধে ‘সামরিক পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তির পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ