বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের ফলের পাশাপাশি শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষও আলোচনায় এসেছে। ম্যাচ শেষে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক কয়েকজন ফুটবলার ও বিশ্লেষক।
রবিবার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর স্পেনের খেলোয়াড়রা মাঠে উদ্যাপন শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার মধ্যে প্রথমে বাক্যবিনিময় হয়। পরে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে দুই দলের অন্য খেলোয়াড়রাও সেখানে জড়ো হন। শেষ পর্যন্ত কোচিং স্টাফ ও ম্যাচ কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ম্যাচ চলাকালেও দুই দলের মধ্যে একাধিক কঠিন ট্যাকল ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত দেখা যায়। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচ-পরবর্তী এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্ট। তার মতে, উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হলেও শেষ বাঁশির পর সংযম দেখানোই পেশাদারিত্বের পরিচয়। তিনি বলেন, লিওনেল মেসি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে মাঠ ছাড়েন, যা একজন অধিনায়কের উপযুক্ত আচরণ।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্যারি নেভিলও আর্জেন্টিনার আচরণকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। একই ধরনের মত দিয়েছেন অ্যালান শিয়ারার ও ওয়েন রুনি। তাদের মতে, হার মেনে নেওয়ারও একটি সংস্কৃতি রয়েছে এবং ম্যাচ শেষে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ফুটবলের সৌন্দর্য নষ্ট করে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনায় নতুন করে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে—এমন দাবি ছড়ালেও ফিফা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে এ ধরনের দাবির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
পুরো ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় স্পেন। নির্ধারিত সময়ে গোল না পেলেও অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় লা রোহা।

