সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি এই অভ্যাসে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই পানীয়কে শরীরের জন্য উপকারী বলে প্রচার করছেন। তবে এর প্রকৃত উপকারিতা কী, আর কারা এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন সেই বিষয়ে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পানির পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে, স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজ পরিচালনায় সহায়তা করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
রাতে দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে সকালে শরীরে কিছুটা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এক গ্লাস পানিতে অল্প পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পান করলে শরীর দ্রুত তরল ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পেতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে, বেশি ঘাম হলে, অসুস্থতার পর বা দীর্ঘ ভ্রমণের পর এটি কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
এই পানীয় তৈরি করতে এক গ্লাস পানিতে এক চিমটি মিনারেলসমৃদ্ধ লবণ, যেমন হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট মিশিয়ে নিলেই যথেষ্ট। তবে লবণের পরিমাণ খুব কম হওয়া জরুরি। কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা বা সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে লবণ মেশানো পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং নিয়মিত অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তারা আরও বলেন, লবণ মেশানো পানি কোনো অলৌকিক পানীয় নয়। এটি কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহায়ক হতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নেই। তাই নতুন কোনো স্বাস্থ্য–প্রবণতা অনুসরণ করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ভোগ ম্যাগাজিন

