spot_img

কুয়েত-বাহরাইন-জর্ডানে একযোগে ব্যাপক হামলা ইরানের

অবশ্যই পরুন

একযোগে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে কুয়েত ও বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা কৌশলগত এফপিএস রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে তাদের অভিযানের তৃতীয় ধাপে মহাকাশ বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, তাদের অভিযান এখনও চলছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি। তারা বলেছে, এ সমুদ্রপথে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখতে দেবে না ইরান।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ‘শত্রুপক্ষের প্রজেক্টাইল’ প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

তারা জানায়, দেশটিতে বিস্ফোরণের যেসব শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার কারণেই শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি দাবি করেছে, প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে তারা বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই বিমানঘাঁটির হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, পি-৮ বিমান রাখা একটি হ্যাঙ্গার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরানের মহাকাশ বাহিনী।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও চলছে বলেও জানানো হয়।

একইসঙ্গে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি দাবি করেছে, জর্ডানের ওই বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে কয়েকটি জ্বালানি ডিপো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাহিনীটি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এটি ছিল তাদের অভিযানের প্রথম ধাপ।

তারা আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের গতিপথ বন্ধ করে দেয়ার আইআরজিসি নৌবাহিনীর অভিযানের পরই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ওই দুটি জাহাজ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে অবৈধভাবে চলাচল করছিল এবং নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল বলেও অভিযোগ করেছে আইআরজিসি।

বাহিনীটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী বিবৃতিতে এর ফলাফল জানানো হবে।

ইরানের নুর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি এই অঞ্চলের ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোতে’ বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

একজন ইরানি সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় ‘শত্রুপক্ষের গতিবিধি’ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জনগণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রধান সড়ক ব্যবহার বা সেগুলোতে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পরে আরও নিরাপত্তা নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর আবারও সাইরেন বাজানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানায়।

এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, সোমবার সকালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাসে অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে তাদের সর্বশেষ দফার হামলা শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয়ার ঠিক আগে এ খবর প্রকাশ করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ

রেকর্ড তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ডে ২,৭০০ প্রাণহানি

মে ও জুন মাসজুড়ে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে এক...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ