বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বেলজিয়াম। এক সময়ের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর স্মৃতি ফিরিয়ে আনা পারফরম্যান্সে বড় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। অষ্টম মিনিটে ইউরি টিলেমান্স প্রথম বড় সুযোগ নষ্ট করলেও পরের মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি। নিকোলা হাসকিনের দারুণ পাস থেকে সহজ ফিনিশে গোল করেন শার্ল ডি কেটেলারে।
গোলের পরও বেলজিয়ামের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। তবে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। মালিক টিলম্যানের শট বেলজিয়ামের মানব দেয়ালে লেগে দিক পরিবর্তন করলে গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়ার কিছুই করার ছিল না।
তবে স্বাগতিকদের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হজমের পরপরই পাল্টা আক্রমণে উঠে লেয়ান্দ্রো ট্রসাডের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলারে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে বেলজিয়ামের এগিয়ে থাকা অবস্থায়।
বিরতির পর বলের দখল কিছুটা বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি। বরং ৫৭তম মিনিটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের বড় ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন হন্স ফানাকে। ডি কেটেলারের চাপের মুখে বল হারিয়ে ফেলেন ফ্রিজ, আর সেই সুযোগে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন ফানাকে।
শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কাঙ্ক্ষিত গোল না পেয়ে উল্টো যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একবার শাস্তি পায় স্বাগতিকরা। রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের ৪-১ ব্যবধানের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন।
দুই গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন শার্ল ডি কেটেলারে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ নয় ম্যাচে এটি ছিল ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ষষ্ঠ গোল।
এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। অন্যদিকে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রকে।

