সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া কিংবা হুট করে পরিচয় যাচাইয়ের (আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন) জটিলতায় পড়া এখনকার সময়ে বেশ নিয়মিত ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ফেসবুকে রয়েছে ‘ভেরিফিকেশন সেলফি’ নামের একটি আধুনিক ফিচার। এটি অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক প্রবেশ বা কার্যক্রম শনাক্ত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও ‘ভেরিফিকেশন সেলফি’ ফিচারটি অন্যতম ভরসার জায়গা। এটি সচল থাকলে কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গেলে বা হ্যাকারদের কবলে পড়লে খুব সহজেই প্রকৃত ব্যবহারকারী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে তা পুনরুদ্ধার করতে পারেন।
ফেসবুক হেল্প সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আপনার অ্যাকাউন্টে এই ফিচারটি যুক্ত করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—
প্রথম ধাপ: স্মার্টফোন থেকে ফেসবুক অ্যাপে প্রবেশ করে ওপরের ডান দিকে থাকা ‘থ্রি-লাইন’ মেনুতে ক্লিক করুন।
তৃতীয় ধাপ: অ্যাকাউন্টস সেন্টারের ভেতরে ‘Password and Security’ অপশনে গেলেই দেখা মিলবে ‘Verification Selfie’ ফিচারটি। সেখানে ক্লিক করে নিজের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টটি বেছে নিন।
চতুর্থ ধাপ:
এবার ‘Next’ বাটনে চাপ দিলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকা ই-মেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড (ওটিপি) যাবে। কোডটি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে আবার ‘Next’ দিয়ে ‘Start Selfie’ অপশনটি নির্বাচন করুন।
পঞ্চম ধাপ:
এই পর্যায়ে অ্যাপটি আপনার মোবাইলের ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি (Permission) চাইবে। অনুমতি দেওয়ার পর স্ক্রিনে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী মুখের সেলফি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। ভেরিফিকেশনের সময় ফেসবুকের নির্দেশনানুযায়ী মাথা সামান্য নাড়ানো, ডানে-বামে তাকানো কিংবা চোখের দৃষ্টি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ হলেই ফিচারটি সক্রিয় হয়ে যাবে।
মনে রাখা জরুরি:
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই একটি ফিচার চালু করলেই যে অ্যাকাউন্ট শতভাগ নিরাপদ থাকবে এবং কখনোই হ্যাক হবে না—এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। ফেসবুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর পাশাপাশি কিছু মৌলিক নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক।
এর মধ্যে রয়েছে- অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, বাধ্যতামূলকভাবে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (২FA) চালু রাখা, মেসেঞ্জার বা ই-মেইলে আসা যেকোনো অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা, নিয়মিত নিজের অ্যাকাউন্টের লগইন অ্যাক্টিভিটি পরীক্ষা করা এবং অ্যাকাউন্টে যুক্ত থাকা ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সবসময় হালনাগাদ রাখা।

