spot_img

লেনদেনে সততা ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব

অবশ্যই পরুন

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা ও আত্মমর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি লেনদেনেও তা বজায় রাখা মুমিনের বৈশষ্ট্যি। ইমাম মানাভী (রহ.) এর মতে, ‘লেনদেনে সততা ও আত্মমর্যাদা হলো, অপমান ও জুলুম ছাড়া বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করা এবং তা উত্তম কাজে ব্যয় করা।’ (আত-তাওক্বিফ আলা মুহিম্মাতিত তাআরিফ)

কিছু কাজ এমন আছে, বিশুদ্ধ নিয়তে যেগুলো করা গেলে লেনদেনে সততা ও আত্মমর্যাদা অর্জন করা সহজ হয়ে যায়। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো;
সন্দেহজনক বস্তু ত্যাগ করা : মুমিন হালাল ভাবে সম্পদ উপার্জন করবে। কিন্তু সম্পদ উপার্জনের লোভে নিজের ঈমান, আকিদা কিংবা মনুষত্বকে বিসর্জন দেবে না। কোথাও লাভ দেখলেই লাফ দেবে না। কারণ লেনদেনের ক্ষেত্রে সততা ও আত্মমর্যাদা বজায় রাখতে গেলে অবশ্যই হারাম জিনিসের পাশাপাশি সন্দেহজনক বিষয়কেও ত্যাগ করতে হবে।

নোমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি বলতে শুনেছি, হালালও সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট এবং এ দুটির মাঝে অনেক সন্দেহজনক বিষয় আছে। তা হালাল হবে না হারাম হবে সেটা অনেকেই জানে না। যে লোক এই সন্দেহজনক বিষয়গুলো নিজের দ্বীন এবং মান-ইজ্জতের হিফাজতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেবে সে নিরাপদ হলো। যে লোক এর কিছুতে লপ্তি হলো তার হারাম কাজে লপ্তি হওয়ারও আশঙ্কা থেকে গেল। (উদাহরণস্বরূপ) নিষদ্ধি এলাকার আশেপাশে যে লোক পশু চড়ায়, তার এতে প্রবেশের ভয় আছে। জেনে রাখ! প্রতিটি সরকারেরই কিছু সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহ তাআলার সংরক্ষিত এলাকা হলো Èতাঁর হারাম করা বিষয়গুলো’। (তিরমিজি, হাদিস : ১২০৫)

লোভমুক্ত জীবন : লোভ-লালসা মানুষের ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে দেয় এবং সম্পদ থেকে বরকত উঠিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে সতর্ক করতে গিয়ে মহানবী (সা.) হাকিম ইবনে হিযাম (রা.)-কে বলেন, Èহে হাকিম! এই সম্পদ শ্যামল সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লোভ ব্যতীত) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। উপরের হাত নিচের হাত হতে উত্তম।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪৭২)

অল্পেতুষ্টি : অল্পে তুষ্ট থাকা ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করে এবং সফলতা লাভে সহায়তা করে। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে লোক ইসলাম কবুল করেছে, এবং তার কাছে নূ্যনতম রিজিক রয়েছে এবং আল্লাহ তাকে অল্পে তুষ্ট থাকার তাওফিক দিয়েছেন, সে-ই সফলকাম হলো। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪৮)

উদারতা ও ন্যায়পরায়ণতা : আমাদের সমাজে বেশির ভাগ মানুষই অন্যের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ঠকাতে চায়। চাতুরতার মার পঁ্যাচে ফেলে জেনে শুনে কোনো সরল মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার নীতিকে ইসলাম সমর্থন করে না।

ইমাম নববী (রহ.) মুসলিম শরীফের হাশিয়ায় উলে্লখ করেছেন যে, হাফেজ আবুল কাসেম ত্ববরানি সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- একদা জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) তঁার এক খাদেমকে পাঠালেন একটা ঘোড়া কেনার জন্য। খাদেম তিনশ’ দিরহাম মূল্য নির্ধারণ করে একটা ঘোড়া কিনে তঁার নিকট উপস্থিত হলো। বিক্রেতাকেও সঙ্গে নিয়ে এলো মূল্য পরিশোধ করার জন্য। জারীর (রা.) বিক্রেতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমার ঘোড়ার মূল্য তো তিনশ’ দিরহামের চেয়েও বেশি। এখন আমি তোমাকে চারশ’ দিরহাম দিতে চাচ্ছি, তুমি কী বল? সে বলল, আপনার ইচ্ছা। এরপর বললেন, না, চারশ’ হলেও কম; পঁাচশ’ দিতে চাই, তোমার কী খেয়াল? সে বলল, আপনার ইচ্ছা। এরপর বললেন, না, পঁাচশ’ হলেও কম; ছয়শ’ দিতে চাই। এভাবে তিনি বাড়াতে বাড়াতে আটশ’ পর্যন্ত বাড়ালেন এবং তাই বিক্রেতাকে দিলেন।

লোকেরা তাঁকে প্রশ্ন করল, আপনি এমন কেন করলেন? মানুষ চষ্টো করে কম দিতে, আর আপনি বাড়িয়ে দিলেন, তাও অস্বাভাবিক! তিনি বললেন, রাসুল (সা.)-এর হাতে আমার বাইআত হয়েছিল এই শর্তে যে, আমি প্রতিটি মুসলমানের সাথে কল্যাণকর আচরণ করব। (মুসলিম শরীফ [শরহে নববী] ১/৫৫পৃ.)

সুবহানাল্লাহ! ইসলামের আদর্শ তাঁর সততা ও আত্মমর্যাদাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তিনি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘোড়া বিক্রেতাকে ঠকাননি। বাজার মূল্য হিসেবে তার যতটুকু প্রাপ্য ছিল, সে না বুঝলেও তিনি নিজ থেকে তাকে তা পরিশোধ করেছেন।

মহান আল্লাহ প্রতিটি মুমিনকে লেনদেনে সততা ও আত্মমর্যাদা অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সংবাদ

ইরান চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের ‘শিক্ষিত’ হওয়া দরকার, বললেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের বিষয়টি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা বা ‘শিক্ষিত’ হওয়া প্রয়োজন বলে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ