spot_img

কারও বদনজর লাগছে কীভাবে বুঝবেন? করণীয় কী?

অবশ্যই পরুন

দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবন মুমিনের জন্য পরীক্ষার হলের মতো। চিরসত্য মৃত্যুর মধ্যদিয়ে প্রত্যেককেই অনন্তকালের জীবনে প্রবেশ করতে হবে। তবে পরকালে সফল হতে অবশ্যই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তবেই আখিরাতে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)

এজন্য অনেক সময় দুনিয়াতে নানা ধরনের বিপদ-আপদের মাধ্যমেও মহান রাব্বুল আলামিন বান্দার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। কখনো এটি হতে পারে শারীরিক কোনো রোগ-ব্যাধি দিয়ে, আবার কখনো জীবন বা সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বদনজর লাগাও আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য একটি পরীক্ষা। কারণ, বদনজর যেমন সত্য, তেমনি এর খারাপ প্রভাবও রয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বদনজর লাগা সত্য (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৯)। এছাড়াও আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য বা বাস্তব ব্যাপার। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৫০৮)

এমনকি পবিত্র কুরআনেও বদনজরের বিষয়টি এসেছে, ইরশাদ হয়েছে- ‘কাফিররা যখন কুরআন শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলবে। আর তারা বলে, সে তো অবশ্যই পাগল।’ (সুরা কলম, আয়াত: ৫১)।

মূলত বদনজর হলো কারও হিংসাত্মক দৃষ্টির কুফল। এ ক্ষেত্রে কারও হিংসাত্মক দৃষ্টির ফলে কোনো ব্যক্তির বা বিষয়ের ভালো অবস্থা থেকে ব্যত্যয় ঘটলে এমনটা বদনজরের কারণে হয়ে থাকতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ভালোমতো খাওয়া-দাওয়া করা কোনো শিশুকে কেউ যদি হিংসাত্মক দৃষ্টিতে দেখে, সে ক্ষেত্রে প্রায়ই ওই শিশুর খাবার খেতে অনীহার মতো বিষয় দেখা যায়।

এ ক্ষেত্রে কারও মধ্যে বেশকিছু লক্ষণ প্রকাশ পেলে তার ওপর কারও বদনজর লেগেছে কিনা সেটি বুঝা যায়। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো চেহারায় কালিমা পড়া (চেহারার স্বাভাবিক নূর বা উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া)। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল (সা.) তার ঘরে এমন একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারায় কালিমা রয়েছে। তখন নবীজি (সা.) বললেন- তাকে ঝাড়-ফুঁক করাও, কেননা তার ওপর (বদ) নজর লেগেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৩৭; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩২৮)

এছাড়াও বিনা কারণেই শরীর অতিরিক্ত দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়াও বজনজরের কারণে হতে পারে। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাযম পরিবারকে সাপের ছোবলে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীকে ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দেন এবং আসমা বিনতু উমায়স (রা.) কে বললেন, আমার ভাই জাফার (রা.) এর ছেলে-মেয়েদের কী হলো যে, তাদের শরীর আমি দুর্বল দেখতে পাচ্ছি? তাদের কি অভাব দেখা দিয়েছে? জবাবে আসমা (রা.) বললেন, না। কিন্তু তাদের ওপর তাড়াতাড়ি কুনজর লেগে যায়। এরপর নবীজি (সা.) বললেন, তুমি তাদের ঝাড়-ফুঁক করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬১৯)

তবে বদনজর লাগা নিয়ে প্রচলিত একটি কথা প্রায়ই শোনা যায় যে, বদনজর লাগলে সোনা বা রূপা ধৌত করা পানি খেলে বা সেই পানি দিয়ে গোসল করলে বদনজর কেটে যায়। আবার কেউ কেউ বদনজর কাটাতে পশুর হাড় ঝুলিয়ে রাখেন। তবে শরিয়তে এমন সবকিছুর ভিত্তি নেই।

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কারও বদনজর লেগেছে এমনটা নিশ্চিত হলে দুইভাবে মূলত বদনজর কাটানো যায়। এর মধ্যে একটি হলো যার বদনজর লেগেছে কোনোভাবে তার শরীর নিসৃত পানি (হাত ধোয়, গোসল করা পানি ইত্যাদি) সংগ্রহ করে যার ওপর বদনজর লেগেছে তার ওপর প্রয়োগ করা। অর্থাৎ, সেই পানি দিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নেয়া বা গোসল করা। এছাড়া অন্যটি হলো- বিশেষ কোনো দোয়া বা কুরআনের আয়াত পাঠ করা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেটি করা যেতে পারে সেটি হলো- সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করা। এ ক্ষেত্রে কোনো পানিতে এই দুই সুরা পড়ে ফুঁ দিয়ে সেই পানি দিয়ে যার ওপর বদনজর লেগেছে তার শরীর ধুয়ে নেয়া যেতে পারে।

এর বাইরেও বদনজর কাটাতে বিভিন্ন দোয়া পড়া যেতে পারে। সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এমন একটি দোয়ার কথা এসেছে। যার মাধ্যমে জিবরিল (আ.) নবীজিকে (সা.) ঝাড়ফুঁক করেছিলেন। সহিহ মুসলিমে আসা হাদিসটি হলো- একবার জিবরিল (আ.) রাসুল (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মদ! (সা.) আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? জবাবে নবীজি বললেন, হ্যাঁ। পরে জিবরিল (আ.) বললেন-

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

বাংলা: বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সেসব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন, আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫১২)

এছাড়া কারও বদনজর লাগলে যে ঝাড়-ফুক করা যায় হাদিসে সে বিষয়টিও এসেছে। উবাইদ ইবনু রিফাআ আয-যুরাকী (রাহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার আসমা বিনতু উমাইস (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.), জাফরের সন্তানদের তাড়াতাড়ি বদনজর লেগে যায়। আমি কি তাদের ঝাড়-ফুঁক করতে পারি? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, হ্যাঁ। কেননা, কোনো জিনিস যদি ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারত তাহলে বদনজরই তা অতিক্রম করতে পারত। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২০৫৯)

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর ‘ব্যক্তিগত পরাজয়’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য বড় ধাক্কা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ব্যক্তিগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ