যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেলেও বিশ্বকাপের পুরো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও গত সপ্তাহের সোমবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। পরে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও একবার প্রবেশের ভিসা গ্রহণ না করে তাকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, “সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক” থাকার অভিযোগে আরতানকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে আরতান জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে সোমালিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার কাছে সব বৈধ কাগজপত্র ছিল। সঠিক ভিসাও ছিল।”
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমি শুধু একজন রেফারি, যে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিল। বিশ্বকাপে আসা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।”
পরে তাকে তুরস্কগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়। ইস্তাম্বুলে ফিফা কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে তিনি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফেরেন।
যদিও এবারের বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না, তবুও ফিফা তাকে পুরো টুর্নামেন্ট ফি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি স্পোর্টস।
বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী রেফারিরা সাধারণত টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর পারিশ্রমিক পান এবং কত অর্থ পাবেন, তা আগেভাগে জানেন না।
২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হওয়া ৩৪ বছর বয়সী আরতান এরই মধ্যে নতুন দায়িত্বও পেয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে উয়েফা সুপার কাপ কাপ ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি। ওই ম্যাচে মুখোমুখি হবে পিএসজি ও অ্যাস্টন ভিলা।
দেশে ফিরে সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত আরতান জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে আবারও দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
২০২৫ সালটা স্মরণীয় ছিল সোমালিয়ান এই রেফারির জন্য। তিনিই প্রথম সোমালি, যিনি কোনো মহাদেশীয় ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালের জুনে পিরামিডস এফসি ও মামেলোদি সানডাউনসের মধ্যকার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়া চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেন আরতান। একই বছর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও দুটি গ্রুপ ম্যাচে ছিলেন দায়িত্বে।

