spot_img

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অগ্রিম কর বাড়ল

অবশ্যই পরুন

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর করের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। বর্তমানে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য রয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় কম পরিমাণ মুনাফা হাতে পাবেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চূড়ান্ত কর দায় (ফাইনাল ট্যাক্স লায়াবিলিটি) ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতদিন মুনাফার ওপর কাটা ৫ শতাংশ করই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হতো। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই হার বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।

মধ্যবিত্ত পরিবার ও পেনশনভোগী অনেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন। তাদের অনেকেই সংসারের খরচে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা কাজে লাগান। বাড়তি অগ্রিম করের জন্য তাদের মুনাফার টাকার পরিমাণ কমে যাবে।

একটি উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্রের ওপর মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি এক লাখ টাকার জন্য বিনিয়োগকরীর মাসিক মুনাফার পরিমাণ ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা। মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার ফলে গ্রাহক হাতে পান ৯৪৫ টাকা। এখন কর দ্বিগুণ হওয়ায় গ্রাহক ৯০০ টাকার কম পাবেন।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার দ্বিগুণ হওয়ায় মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে। কারণ, দেশের মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা সংসার চালাতে ব্যবহার করেন। এখন মুনাফা থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা কেটে নিলে চাপে পড়বেন তারা। মধ্যবিত্তশ্রেণিকে স্বস্তি দিতে এই বাড়তি অগ্রিম কর বাদ দেওয়া উচিত।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে। মেয়াদপূর্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্র নিয়ে নতুন কিছু করা হয়নি।’

সর্বশেষ সংবাদ

জাপানে সর্বনিম্ন জন্মহারের রেকর্ড, গভীর হচ্ছে জনসংখ্যা সংকট

জাপানে বার্ষিক জন্ম ও প্রজনন হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমসংখ্যক মানুষের বিয়ে এবং তরুণ-তরুণীদের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ