ইরানের সার্বভৌমত্বের অংশ হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে কোনো বহিরাগত বা আঞ্চলিক বহির্ভূত শক্তির সামরিক মহড়া প্রদর্শনীর জায়গা নয় বলে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। এই নৌপথে যেকোনো ধরনের সামরিক উসকানির বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর বার্তা দিয়েছে দেশটি।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সামরিক সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত—এমন যৌথ ঘোষণার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এল।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্থিতিশীলতার প্রধান জিম্মাদার হিসেবে ইরান এই জলসীমায় যেকোনো ধরনের বহিরাগত সামরিক তৎপরতাকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।’
বহিরাগত পরাশক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে ঘারিবাবাদী তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘হরমুজ প্রণালীর সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার একক দায়িত্ব এই অঞ্চলের উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর। যারা এই জলসীমায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চাইছে, তাদের এই হঠকারিতা ও দুঃসাহসিক অভিযানের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং এর জন্য তারাই দায়ী থাকবে। এটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুতর ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি।’
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা

