যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, এ ধরনের হামলা ইরানের প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। তবে তেহরান এই হামলাকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান দুর্বল যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
রোববার (৭ জুন) বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হিজবুল্লাহর সদর দপ্তর থাকা এই এলাকাতেই হামলাটি চালানো হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আল-মরাইযেহ এলাকায় একটি ভবনকে লক্ষ্য করে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, হিজবুল্লাহর প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের দখলকৃত উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি এক জরুরি ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন যে, বৈরুতকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো ওয়াশিংটনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই সময় ইসরায়েল দাহিয়েহে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছিল।
হিজবুল্লাহ ও লেবানন গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হয়। এদিকে ইরান ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও শর্ত দিয়েছে যে হিজবুল্লাহসহ তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং লেবানন সরকারকে সংগঠনটি নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টাও তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
চলমান এই সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি

