spot_img

এখন ইরানকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে: আরাঘচি

অবশ্যই পরুন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। তার দাবি, আরব দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে—আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিদেশি সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না; বরং তা হতে হবে সম্মিলিত ও আঞ্চলিক।

রাষ্ট্রপতির যোগাযোগ দপ্তরকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে বহিরাগত শক্তি ও তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার উৎসে পরিণত হয়েছে।

তার দাবি, যেসব দেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি ছিল না, তারা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ছিল, সেই ঘাঁটিগুলো তাদের রক্ষার পরিবর্তে সংঘাতের অংশ হয়ে উঠেছে।

আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই নিরাপত্তা হতে হবে সম্মিলিত এবং এর সঙ্গে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও যুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভারসাম্যহীনতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের যুদ্ধ-পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, এটি যুদ্ধের আগের নীতির তুলনায় “সম্পূর্ণ ভিন্ন” হবে।

তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের আগে ইরানকে দুর্বল হিসেবে দেখার একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল এবং সেই ধারণাই আক্রমণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ৪০ দিনের প্রতিরোধের পর ইরানের সেই ভাবমূর্তি বদলে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন ইরানকে এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম।

ইরানের জনকূটনীতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন আরাঘচি। তার দাবি, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের জনকূটনীতি “অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী” ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত ইরানি কূটনীতিকদেরও প্রশংসা করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাপক চাপের মধ্যেও কোনো কূটনীতিক পদত্যাগ করেননি।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পেজেশকিয়ান ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।

আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ দিনের যুদ্ধের পর পেজেশকিয়ান কেবল একটি সাধারণ যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেন এবং এমন একটি যুদ্ধের সমাপ্তি চেয়েছিলেন, যাতে একই ধরনের সংঘাত আবার ফিরে না আসে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ১৫ দফা প্রস্তাব কার্যত একটি “আত্মসমর্পণ দলিলের” মতো ছিল। পরে ১৪ দফার যে সমঝোতা স্মারক তৈরি হয়, সেটি আলোচনায় ইরানের অবস্থান কতটা এগিয়েছে তার প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পেজেশকিয়ানকে আরাঘচি একজন সংস্কারবাদী নেতা হিসেবে বর্ণনা করলেও বলেন, নীতিগত প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়। ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণের প্রতি তার গভীর অঙ্গীকার রয়েছে বলেও দাবি করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সবশেষে আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের পর ইরানিরা এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবে, যা হবে আরও শক্তিশালী, দৃঢ় ও মর্যাদাপূর্ণ এবং যার মূল লক্ষ্য থাকবে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও ইরানের মর্যাদা রক্ষা করা। সূত্র মেহের নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

শ্রম সহযোগিতা নি‌য়ে কাতারের মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ