ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: নামটাই যেন ফুটবলের ইতিহাসের এক অধ্যায়। কিন্তু সেই অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শিরোনাম, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ট্রফি, এখনো অধরা রয়ে গেছে পর্তুগিজ মহাতারকার।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে, শেষ বাঁশি বাজার পরই আল থুমামা স্টেডিয়ামে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রোনালদো। মরক্কোর বিপক্ষে চমকপ্রদ কোয়ার্টার ফাইনাল হার ছিল তার বিশ্বকাপ স্বপ্নের আরেকটি ভাঙন।
বিশ্বকাপে এলিমিনেট হওয়ার পর সেসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানোই ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। পাঁচটি বিশ্বকাপে সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি—এভাবেই হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবুও থেমে যাননি রোনালদো। বয়স এখন ৪০ পেরিয়ে গেলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য, পর্তুগাল দলে তাকে আবারও রাখা হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এটি হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ এবং সবচেয়ে বড় সুযোগও কিছু করে দেখানোর।
২০২২ বিশ্বকাপে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার অস্থির সময়ের পর দলে জায়গা হারানো এবং শেষ ১৬’র ম্যাচে তাকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই ম্যাচে তার বদলি গনসালো রামোস হ্যাটট্রিক করে ৬–১ ব্যবধানে জয় এনে দেন পর্তুগালকে।
পরে রোনালদো জানিয়েছিলেন, দেশকে নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি কখনো কমেনি এবং কমবেও না। তবে সেই টুর্নামেন্টের পর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন নতুন যুগ শুরুর কথা ভাবলেও অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনেনি।
পরবর্তীতে, কোচ রবার্তো মার্টিনেজ দায়িত্ব নিয়ে রোনালদোকেই দলে রেখে সামনে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন—যা অনেকের মতে পর্তুগালের নতুন প্রজন্ম গঠনের পথে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ, রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। তবে, প্রশ্ন একটাই—ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তি কি শেষবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ছুঁতে পারবেন?

