শেষ ১৩ বলে দরকার ছিল মাত্র ১ রান, হাতে ৫ উইকেট। কোনোরকম সিঙ্গেল নিলেই শিরোপা রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি)। তবে রাজকীয়ভাবেই জিততে চাইলেন বিরাট কোহলি। তাইতো মিড উইকেটের ওপর দিয়ে হাঁকালেন নান্দনিক এক ছক্কা। তাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতে নিলো বেঙ্গালুরু। ১৮ বছরের অপেক্ষা ঘটিয়ে গতবার প্রথম আইপিএল শিরোপা জিতেছিল দলটি। তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভ্যাসটি পরের বছরও ছাড়তে চায়নি বিরাট কোহলিময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
রোববার (৩১ মে) রাতে ফাইনাল ম্যাচে গুজরাট টাইটানসকে ১২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে হারায় বেঙ্গালুরু। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন দলের প্রাণভোমরা কোহলি। ৪২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন এই ‘চেজ মাস্টার’।
আইপিএলে এবার যেরকম রানবন্যা দেখা গেছে, সেই হিসেবে আরসিবির সামনে গুজরাটের দেয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্য মামুলিই ছিল। শুরুতেই শুভমান গিলের দলকে ভড়কে দেয় কোহলি-ভেঙ্কটেশ আইয়ার জুটি। ৪ ওভারের পরপরই তুলে নেয় ৬০ রান। তবে এরপর কিছুটা ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু। ১৬ বলে ৩২ রান করে আউট হন আইয়ার। এক শ’র আগেই ফিরে যান দেবদত্ত পাডিক্কাল, রজত পাটিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়া।
তবে ৪ উইকেট হারালেও আরেক পাশে অবিচল ছিলেন কোহলি। শুধু অবিচলই ছিলেন না, রান তুলে গেছেন দুর্দান্ত গতিতে। ৯১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর টিম ডেভিডকে নিয়ে গড়েন ৪১ রানের মূল্যবান জুটি। ১৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন ডেভিড। জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু জিতেশ শর্মাকে নিয়ে সুনিপুণভাবে সারেন কোহলি।
বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব অবশ্য বোলারদের। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড, রাসিক সালাম কিংবা ক্রুনাল পান্ডিয়াদের সামনে গুজরাট ছিল অসহায়। সালাম ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নে। ক্রুনাল ১ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে খরচ করেন মাত্র ২৩ রান। দুইটি করে উইকেট নেন দলের প্রধান দুই পেস ব্যাটারি হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বর। গুজরাটের হয়ে ৩৭ বলে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ওয়াশিংটন সুন্দর।

