যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি কয়েক দশকের পুরোনো কূটনৈতিক রীতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করেছেন।
বুধবার ট্রাম্প বলেন, তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছেন। ১৯৭৯ সালে ওয়াশিংটন তাইপেইয়ের পরিবর্তে বেইজিংকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে যে কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করা হয়ে আসছে, এ মন্তব্য সেটিকেই প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে।
মেরিল্যান্ডে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলবো। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। আমরা তাইওয়ানের সমস্যা নিয়ে কাজ করবো।”
পরে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রেসিডেন্ট লাই এমন একটি কথোপকথনকে স্বাগত জানাবেন।
চীন তাইওয়ানকে নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। “এক চীন” নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় সব দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে সেই অবস্থানকে স্বীকার করে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে কোনো বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি। তবে ২০১৬ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তখনকার তাইওয়ান নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দীর্ঘদিনের সেই কূটনৈতিক রীতিতে ব্যত্যয় ঘটান। এতে বেইজিং তীব্র আপত্তি জানায়।
তখন ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিম ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছিল, যদিও চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের কাছে প্রতিবাদ জানায়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য গত এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশের ঘটনা। এর ফলে ধারণা নাকচ হয়ে যায় যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর দেওয়া তার আগের মন্তব্যটি হয়তো ভুলবশত বা হঠাৎ বলে ফেলেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যরা বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প আগের যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় তাইওয়ানের কাছে বেশি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প নিজে ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তিগুলোকে “খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার” বলে উল্লেখ করেছেন। এর ফলে সমালোচকরা বলছেন, ওয়াশিংটন বৃহত্তর চীনবিরোধী কৌশলে তাইওয়ান ইস্যুকে চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে।
এদিকে চীনা কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে, তাইওয়ান একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং তাইপেই ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতার সব রূপের নিন্দা জানিয়েছেন।
বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসন তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে, যা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে উৎসাহিত করছে বলে বেইজিংয়ের অভিযোগ। ট্রাম্পের আমলে ওয়াশিংটন দ্বীপটির জন্য বড় আকারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে।
চীন বারবার সতর্ক করেছে যে, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং তাইপেইয়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। বেইজিং আরও জোর দিয়ে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা শক্তিকে তারা কখনোই তাইওয়ানকে চীন থেকে আলাদা করতে দেবে না এবং চীনের পুনঃএকত্রীকরণে কোনো বিদেশি শক্তির বাধাও মেনে নেবে না।
গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সফররত ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যু “ভুলভাবে পরিচালনা” না করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে গুরুতর উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং দুই পরাশক্তিকে সংঘাতের পথে ঠেলে দিতে পারে।
শি তখন বলেন, “এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে। অন্যথায় দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ, এমনকি বিরোধও তৈরি হতে পারে, যা পুরো সম্পর্ককে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।”
চীনা নেতা আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাইওয়ান প্রশ্নটি “চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়” এবং তাইওয়ান সবসময়ই চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
সূত্র: প্রেস টিভি

