বরিশালে ২০১৫ সালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৭ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলায় মোট সাক্ষী ২৮ জন। চার আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন। বুধবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনান। পরে উপস্থিত দুই আসামির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। জবাবে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই ব্যক্তি হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করান।

