মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিভক্ত ইরানি প্রশাসনের ভেতরে কার হাতে কতটা ক্ষমতা রয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো ধারণা করছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে নেপথ্যে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছেন খামেনি।
যুদ্ধের শুরুর দিকে এক হামলায় তার বাবা এবং ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা এবং ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে তার বর্তমান ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইরান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলায় দেশটির কিছু ক্ষতি হলেও উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান আরও কয়েক মাস টিকে থাকতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে।
যে হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন, তার কয়েকদিন পরই তাকে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এখনো তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অনিশ্চয়তার একটি বড় কারণ হলো খামেনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না। তিনি শুধুমাত্র সরাসরি সাক্ষাৎ বা বিশ্বস্ত বার্তাবাহকের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি শুক্রবার জানান, খামেনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
এক জনসমাবেশে হোসেইনি বলেন, “শত্রুরা নানা ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা তাকে খুঁজে বের করতে চায়। তবে জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে, তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। সঠিক সময়ে তিনি নিজেই জনগণের সামনে আসবেন।”
সূত্র: সিএনএন

