spot_img

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে: মেদভেদেভ

অবশ্যই পরুন

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যকার বর্তমান ফাটল গত ১০০ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, দিমিত্রি মেদভেদেভ বৃহস্পতিবার এক নিবন্ধে বলেছেন, ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেওয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভান্সের ইউরোপের পরিচয় হারানো বিষয়ক মন্তব্য, ইউরোপীয় দেশগুলোর ইরান বিরোধী আগ্রাসনে সরাসরি অংশ না নেওয়াসহ হরমুজ প্রণালি ‘সামরিকভাবে খোলার’ অভিযানে যোগ না দেওয়ার ঘটনা গত একশ বছরে ইউরোপ ও আমেরিকাকে নজিরবিহীনভাবে একে অপরের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে ইউরোপের ‘কৌশলগত স্বাধীনতা’ ধারণার চেয়েও অনেক কাছাকাছি-যার স্বপ্ন উদারপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছে। তবে মূল প্রশ্ন হচ্ছে, আজকের ‘দন্তহীন’ মানে সামরিক শক্তিহীন এবং ‘শীতল’ অর্থাৎ বিশ্ব সংকটের প্রতি উদাসীন ইউরোপে ভবিষ্যতের এজেন্ডা কে নির্ধারণ করবে?

মেদভেদেভ আরও বলেন, জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব গ্রহণের চেষ্টা করছে, কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানির পদক্ষেপগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় নি।

তিনি দাবি করেন, জার্মানি পুনরায় অস্ত্রসজ্জায় মনোযোগ দিচ্ছে এবং নাৎসি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করছে। তার ভাষায়, এই দেশ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে ‘কাগজের টুকরো’ মনে করে এবং এভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

রাশিয়ার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, মস্কো কোনো অবস্থাতেই ১৯৪১ সালের ২২ জুন নাৎসি জার্মানির আকস্মিক হামলার পুনরাবৃত্তি হতে দিতে পারে না। তার মতে, রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৪১ সালের সেই বিপর্যয় ঠেকানো।

তিনি আরও বলেন, জার্মানরা আজও সেই একই ধরনের সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রধান সামরিক অক্ষগুলো বরাবর গড়ে তোলা হয়েছিল। জার্মানির সামরিকীকরণ রাশিয়াকে শুধু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী বজায় রাখতে নয়, পশ্চিম দিক থেকে আসা হুমকির দিকেও মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে বাধ্য করছে।

মেদভেদেভ বলেন,সামরিকীকরণে ফিরে যাওয়া জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা রাশিয়া-কোনো পক্ষের জন্যই উপকারী নয়; বরং এটি বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত।

তিনি আরও দাবি করেন, জার্মানি ধীরে ধীরে একটি সামরিক একনায়কতন্ত্রের মতো রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, ইউক্রেন সংঘাতে নিজেদের ‘ব্যর্থ’ ভূ-রাজনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক-রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

মস্কো-বার্লিন সম্পর্ক নিয়ে মেদভেদেভ দুটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরেন, হয় জার্মানি সামরিকীকরণের পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মবিনাশের মুখে পড়বে অথবা বাস্তবতা উপলব্ধি করে রাশিয়ার সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে ফিরবে। তার ভাষায়: দুই পরিস্থিতিই আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য,সিদ্ধান্ত জার্মানির।

ন্যাটো সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমারা একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ন্যাটো ‘এক ইঞ্চিও পূর্ব দিকে’ সম্প্রসারিত হবে না। কিন্তু যদি সেই প্রতিশ্রুতি কোনো আনুষ্ঠানিক নথিতে লেখাও থাকতো, আজকের পশ্চিমা দেশগুলো সেটিকে সহজেই ‘আবর্জনার ঝুড়িতে’ ফেলে দিত।

সূত্র: পার্সটুডে

সর্বশেষ সংবাদ

ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও পুশইন ইস্যুতে জামায়াত আমিরের বার্তা

ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও পুশইন ইস্যু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ