হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া মানে রক্তে লাল কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া, যার ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কিছু জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
প্রথমেই খাদ্যাভ্যাসে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাল মাংস, কলিজা, ডিমের কুসুম, মাছ—এসব প্রাণিজ উৎসে থাকা আয়রন শরীরে দ্রুত শোষিত হয়। পাশাপাশি উদ্ভিদ জাতীয় উৎস হিসেবে পালংশাক, লাল শাক, মসুর ডাল, ছোলা, কিশমিশ, খেজুর ও বিটরুট নিয়মিত খাওয়া উপকারী।
আয়রনের সঙ্গে ভিটামিন ‘সি’ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ এটি শরীরে আয়রন শোষণ বাড়ায়। তাই লেবু, কমলা, আমলকী, পেয়ারা বা টমেটো জাতীয় ফল-সবজি খাবারের সঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
অনেক সময় শুধু খাবারেই ঘাটতি পূরণ হয় না। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে আয়রন ট্যাবলেট বা সিরাপ নিতে হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, কিশোর-কিশোরী এবং অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রয়োজন হয়।
কিছু খাবার আছে যেগুলো আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে, যেমন চা ও কফি। খাবারের ঠিক পরপরই এগুলো না খাওয়াই ভালো। একইভাবে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত।
যদি দীর্ঘদিন দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ভাব, বা শ্বাসকষ্ট থাকে, তাহলে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ হিমোগ্লোবিন কমার পেছনে শুধু আয়রন ঘাটতিই নয়, ভিটামিন বি১২ বা ফোলেটের অভাবও থাকতে পারে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—এই তিনটি মিলেই হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

