বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নাহিদ রানাকে এখন আলাদা করে দেখা হচ্ছে। গতি, আগ্রাসন ও সম্ভাবনা মিলিয়ে তাকে ঘিরে প্রত্যাশাও বাড়ছে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের আগে বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সতর্কতার কথাও মনে করিয়ে দিলেন। তার মতে, নাহিদকে শুধু খেলালেই হবে না, তাকে ঠিকভাবে সামলাতেও হবে।
নাহিদকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সিমন্সের প্রথম কথাই ছিল তার মানসিকতা নিয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন হলেও নিজের অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কে নাহিদের বোঝাপড়া বাংলাদেশ কোচকে মুগ্ধ করেছে।
সিমন্স বলেছেন, ‘নাহিদ রানার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে কোথায় আছে এবং তাকে কী করতে হবে, সেটা বুঝতে পারে। যে মাত্র ক্রিকেটে আসছে, তার প্রস্তুতি ও নিজের অবস্থান নিয়ে এমন মানসিকতা আমার চোখে খুবই বুদ্ধিদীপ্ত।’
তবে নাহিদের মতো গতিময় পেসারকে নিয়ে বাংলাদেশের ভাবনা শুধু এই টেস্টে সীমাবদ্ধ নয়। সিমন্স জানালেন, তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে পুরোপুরি ফিট না থাকলে টেস্টে নামানো যাবে না।
বাংলাদেশ কোচের ভাষায়, ‘ওকে আমাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, যেন অতিরিক্ত কাজ করানো না হয়। অর্ধেক ফিট অবস্থায় তাকে টেস্ট ম্যাচে খেলানো যাবে না। আমরা তাকে চাই, তার গতিও চাই।’
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন আগের চেয়ে সমৃদ্ধ বলেও মনে করেন সিমন্স। তার মতে, দলের হাতে ভালো একটি ফাস্ট বোলিং ইউনিট আছে, যেখানে গতির দিক থেকে নাহিদ এগিয়ে। তাই তাকে সামলে রাখা আরও জরুরি।
সিমন্স বলেন, ‘আমাদের ভালো একটি ফাস্ট বোলিং ব্যাটারি আছে। গতির দিক থেকে সে এখন সামনে। তাই তাকেও আমাদের দেখভাল করতে হবে।’
নাহিদ দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন কি না, সেটিও নির্ভর করবে প্রথম টেস্টের পর তার ওয়ার্কলোডের ওপর। সিমন্স জানালেন, প্রথম টেস্টের পর দেখা হবে তিনি কত ওভার বল করেছেন, শরীরের অবস্থা কেমন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি দ্বিতীয় টেস্ট খেলবেন, নাকি বিশ্রাম পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিমের ১০১তম টেস্ট নিয়েও কথা বলেছেন সিমন্স। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের প্রস্তুতি নিয়ে তার কোনো সংশয় নেই। সিমন্সের চোখে মুশফিক ১০১তম টেস্টকেও দেখবেন প্রথম, ৫০তম বা ১০০তম টেস্টের মতো একই গুরুত্ব দিয়ে।
তিনি বলেন, ‘মুশির ক্ষেত্রে, অল্প সময় তাকে যতটা দেখেছি, এটা তার কাছে প্রথম টেস্টের মতোই হবে। প্রথম, ৫০তম, ১০০তম, সবকিছুর মতোই সে নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।’
দলে দুই নতুন মুখের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন সিমন্স। তিনি সরাসরি একাদশ ঘোষণা করেননি, তবে জানালেন, নতুনদের দলে আসা ইতিবাচক। ম্যাচের আগের দিন বসে একাদশ চূড়ান্ত করা হবে। তাই অভিষেকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘তরুণ খেলোয়াড় আসা ভালো, নতুন খেলোয়াড় দলে আসা ভালো। কাল আমরা বসে চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করব। তাই কারও অভিষেকের সুযোগ সব সময়ই থাকে। এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

