একই পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই ও এক পুত্রবধূকে নিয়ে গঠিত একটি পারিবারিক চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল। সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তারা মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন করে মানিলন্ডারিং করেছে।
২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তাদের ব্যাংক হিসাবে মোট ৫ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— মো. কামাল উদ্দিন (৩৩), জাহানারা বেগম (৩৩), মো. মানিক মিয়া (৩৬), মো. আ. আওয়াল (৬৫), মোসা. আসমা (৪৩), রেশমা খাতুন (৩৯) এবং লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার (৩১)। তাদের বর্তমান ঠিকানা টঙ্গীর মাস্টারবাড়ী, চেরাগআলী এলাকায়।
সিআইডি জানায়, অভিযুক্ত আসমা, রেশমা ও লিজা—এই তিন বোন গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার মূলহোতা হিসেবে পরিচিত। তাদের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে ওঠে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করত।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা মানিলন্ডারিং করেছে। এ ছাড়া প্রায় ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার জমি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ মাদক ক্রয় এবং ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগমের বিরুদ্ধে ৭টি, মো. মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি এবং মোসা. আসমার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী “অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা” মানিলন্ডারিং অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

