হঠাৎ আপনার সামনে কেউ কাঁপতে শুরু করল, মাটিতে পড়ে গেল, শরীর শক্ত হয়ে গেল মুহূর্তেই চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভয় পেয়ে যান, কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। কিন্তু সত্যিটা হলো এই কয়েক মিনিটের সঠিক পদক্ষেপই একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতোই খিঁচুনি একটি জরুরি অবস্থা। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
খিঁচুনি মূলত মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে হঠাৎ সমস্যা হলে ঘটে। এটা আগে থেকে সতর্কতা না দিয়েই হতে পারে যার কারণে আশেপাশের মানুষ হঠাৎই বিপাকে পড়ে যান।
খিঁচুনি হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
খিঁচুনির সময় সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা যায়—
- হাত-পা হঠাৎ ঝাঁকুনি দেয়া
- শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া
- একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা
- দ্রুত চোখ পিটপিট করা
- হঠাৎ পড়ে যাওয়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়।
খিঁচুনি শুরু হলে কী করবেন: ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট ডা. প্রভীন গুপ্তর মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্ত থাকা। এরপর ধাপে ধাপে যা করবেন—
১. আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
আশেপাশে থাকা ধারালো বা শক্ত জিনিস সরিয়ে ফেলুন যাতে রোগী আঘাত না পান।
২. পাশ ফিরিয়ে শোয়ান
সম্ভব হলে রোগীকে পাশে কাত করে শোয়ান মাথার নিচে নরম কিছু (কাপড়/তোয়ালে) দিন। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয় এবং দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৩. শরীর চেপে ধরবেন না
অনেকে ভাবেন, হাত-পা চেপে ধরলে খিঁচুনি থামবে, এটা একদম ভুল ধারনা। এতে উল্টো আঘাত লাগতে পারে।
৪. প্রয়োজনে জরুরি ওষুধ দিন
যদি রোগীর জন্য আগে থেকে কোনো “রেস্কিউ মেডিসিন” (যেমন মিডাজোলাম স্প্রে) দেওয়া থাকে এবং আপনি ব্যবহার জানেন তাহলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন।
কতক্ষণ হলে বিপদ
সাধারণত বেশিরভাগ খিঁচুনি ২–৩ মিনিটের মধ্যে থেমে যায়। কিন্তু যদি ৩ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলে বা একটার পর আরেকটা খিঁচুনি শুরু হয় তাহলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
যেসব একেবারেই উচিত নয়: অনেক সময় আতঙ্কে আমরা ভুল কিছু করে ফেলি যা বিপজ্জনক হতে পারে।
- মুখে কিছু ঢোকাবেন না। যেমন, আঙুল, চামচ বা কাপড়।
- পানি বা খাবার দেয়ার চেষ্টা করবেন না।
- জোর করে ধরে রাখবেন না।
এগুলো করলে শ্বাসরোধ বা আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে।
খিঁচুনি দেখা ভয়ঙ্কর মনে হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই থেমে যায়। আপনি যদি শান্ত থাকেন, তাহলে রোগীকেও নিরাপদ রাখতে পারবেন। হঠাৎ খিঁচুনি দেখা দিলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক কিন্তু সেই মুহূর্তে আপনার উপস্থিত বুদ্ধিই সবচেয়ে বড় সহায়তা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

