spot_img

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, ২০০ ডলার ব্যারেলের শঙ্কা

অবশ্যই পরুন

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ওমানি জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের তুলনায় রেকর্ড ৫১ ডলার বেশি প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে মে মাসে সরবরাহের জন্য এ তেলের কার্যকর মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ ডলার প্রতি ব্যারেল।

একইভাবে দুবাইয়ের জ্বালানি তেলের ক্যাশ প্রিমিয়ামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ব্যবধান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাজারে সরবরাহ সংকট সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে—এমন সতর্কবার্তা এখন আর কেবল বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে না।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সংঘাত শেষ হলে দ্রুত দাম কমে আসবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপরীত ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহ সংকট ও বাজারের অনিশ্চয়তা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এখনকার পরিস্থিতি তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি গুরুতর। বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল আটকে আছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। পাশাপাশি ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে এশিয়ায়, যেখানে মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ জ্বালানি তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। সরবরাহ ঘাটতির কারণে চীনের বৃহত্তম পরিশোধনাগার সিনোপেক উৎপাদন ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীন ও থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বন্ধ করেছে।

সংকটের প্রভাব পড়েছে বিমান খাতেও। এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার এবং ইউরোপে ১৯০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এ দিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে সাময়িক স্বস্তি দিলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হলেও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে দ্রুত দাম কমে আসার আশাবাদের চেয়ে ইরানের ২০০ ডলারের সতর্কবার্তাই বর্তমান বাস্তবতায় বেশি সম্ভাব্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছে সরকার, এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছে সরকার, তবে এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ