এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের প্রায় শেষ পর্যন্ত দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। গোলপোস্টে মিলি আক্তারের দারুণ দৃঢ়তা, প্রযুক্তির সহায়তা এবং কিছুটা ভাগ্যও ছিল দলের পক্ষে। তবে যোগ করা সময়ে মুহূর্তের ভুলে ভেঙে পড়ে সেই প্রতিরোধ।
দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। ফলে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। টানা দুই হারে কোচ পিটার জেমস বাটলারের দলের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা এখন শঙ্কার মুখে।
এর আগে চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব শুরু করা বাংলাদেশ এ ম্যাচে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে। উমহেলা মারমা ও শিউলি আজিমের জায়গায় তহুরা খাতুন এবং আইরিন খাতুনকে নিয়ে দল সাজান কোচ।
অন্যদিকে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসা উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। পঞ্চম মিনিটে অফসাইডের আগে দারুণ দৃঢ়তা দেখান গোলরক্ষক মিলি। সতীর্থের থ্রু পাস ধরে একা গোলকিপারের সামনে চলে গিয়েছিলেন হান জিন হং, কিন্তু তার শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান মিলি। কিছুক্ষণ পর ডান দিক থেকে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে কোহাতি কিসকু প্রায় নিজের জালেই বল জড়াতে বসেছিলেন, তবে মিলি লাফিয়ে গ্লাভসে বল জড়িয়ে নেন।
১৪তম মিনিটে গোলের দেখা পেয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি উত্তর কোরিয়া। বক্সে হান জিন হংয়ের সঙ্গে বল দেওয়া–নেওয়ার পর মিয়ং ইউ জং শট নেন। আফঈদার ট্যাকলে বল জংয়ের গায়ে লেগে কিম কিয়ং ইয়ংয়ের কাছে গেলে তিনি নবীরন খাতুনের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান। তবে ভিএআর চেকে দেখা যায়, আফঈদার ট্যাকলে বল আগে মিয়ং ইউ জংয়ের হাতে লেগেছিল। ফলে রেফারি হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান।
২৬তম মিনিটে কর্নার থেকে কিম কিয়ং ইয়ংয়ের হেড এক হাতের থাবায় ঠেকান মিলি। ফিরতি চেষ্টায় অন্য হাতে বল মাটিতে চেপে ধরেন তিনি। এ সময় বল গ্লাভসের নিচে থাকা অবস্থায় হান জিন হং শট নিয়ে জালে জড়ালে উল্লাস শুরু করেন সতীর্থরা। কিন্তু বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আপত্তির পর ভিএআর দেখে রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। চার মিনিট পর কিম কিয়ং ইয়ংয়ের আরেকটি শটে মিলি পরাস্ত হলেও অফসাইডের কারণে গোল পায়নি উত্তর কোরিয়া।
৩৮তম মিনিটে ভাগ্য সহায় ছিল বাংলাদেশের। কিম কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই সময় কোহাতির হালকা চার্জে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির দাবি তোলে উত্তর কোরিয়া। তবে ভিএআর চেকে এবারও সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের পক্ষে। কিছুক্ষণ পর হান জিন হংয়ের শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে তিন পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। শামসুন্নাহার জুনিয়র, তহুরা ও আইরিনকে তুলে স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ও উমহেলা মারমাকে মাঠে নামানো হয়।
যদিও বিরতির ঠিক আগে দুই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। সফল স্পট কিকে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে নেন মিয়ং ইউ জং। কোহাতি বক্সে বল হারালে তা পান হং সং ওক। তিন ডিফেন্ডার তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে আফঈদা তাকে টেনে ফেলে দেন, এতে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ং কোনাকুণি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল উত্তর কোরিয়ার হাতেই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে নবম এবং এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটির বিপক্ষে আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দার জুটি সেদিন খুব একটা কার্যকর ছিলেন না। ফলে আক্রমণভাগে বলের জোগান পাননি তহুরা ও ঋতুপর্ণারা।
৫৯তম মিনিটে সতীর্থের কাটব্যাক থেকে কিম কিয়ং ইয়ংয়ের শট আফঈদার গায়ে লেগে কর্নার হয়। কিছুক্ষণ পর হং সং ওকের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মিলি, পরে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্লাভসে নেন তিনি।
এরপর এক মিনিটের ব্যবধানে আবারও দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৬২তম মিনিটে হং সং ওককে আটকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিলি। তখন তিনি চিপ শট নেন। বল ক্লিয়ার করার সুযোগ থাকলেও পা পিছলে পড়ে যান কোহাতি, ফলে আলগা বল জালে ঠেলে দেন চায়ে উন ইয়ং। পরের মিনিটেই কিম কিয়ং ইয়ংয়ের জোরাল কোনাকুণি নিচু শট মিলির হাতের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে গেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া।
এরপরও মিলির উপর আক্রমণের চাপ অব্যাহত থাকে। ৭০তম মিনিটে হং সং ওকের শট ঠেকান তিনি। যোগ করা সময়ে ডাইভিং হেডে কিম হায়ে ইয়ং গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত করে উত্তর কোরিয়া।
আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিন গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ের একটি হয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে হলে এ ম্যাচে জিততেই হবে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের।

