spot_img

ঈমানদারের আল্লাহপ্রেম

অবশ্যই পরুন

ভালোবাসা মানুষের হূদয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতিগুলোর একটি। ইসলামে এই ভালোবাসা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়নি; বরং তাকে একটি পবিত্র উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, আর সেই উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর আল্লাহর জন্য ভালোবাসা মানুষকে ন্যায়, সততা ও পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়। আল্লাহর কাছে তাঁর ভালোবাসা কিভাবে চেয়ে নিতে হয় তা রাসুল (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা বিশেষ এক মুহূর্তে নবী করিম (সা.)-কে বললেন- আপনি (আমার কাছে কিছু) প্রার্থনা করুন। তখন তিনি প্রার্থনা করলেন এভাবে—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা চাই এবং চাই ওই ব্যক্তির ভালোবাসা, যে আপনাকে ভালোবাসা করে। আর ওই কাজের প্রতিও ভালোবাসা চাই, যা আপনার মহব্বতের নিকটবর্তী করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩২৩৫)

এমনিভাবে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আলখাতমি (রা.) থেকেও একটি দোয়া বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন—‘হে আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালোবাসাও দান করুন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ৩১৫৭১)

এসব হাদিস থেকে বোঝা যায়, বান্দার ভালোবাসা হতে হবে মূলত আল্লাহ তাআলার প্রতি। যার মাধ্যমে বান্দা তাঁর অবাধ্যতা থেকে নিজেকে সংযত রাখবে এবং তার রবের নৈকট্য অর্জন করবে। এরপর যদি অন্য কারো প্রতি ভালোবাসা হয় সেটা হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি সামনে রেখে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সাত শ্রেণির লোক কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ায় থাকবে, তন্মধ্যে এক শ্রেণি হলো ওই দুই ব্যক্তি, যারা একে অপরকে ভালোবাসা করে আল্লাহর জন্য। তাঁর জন্যই একত্রিত হয়, আবার তাঁর জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

অন্য এক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে যারা একে অপরকে ভালোবাসে তাদের পুরষ্কারের কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন : আমার মহিমার জন্য যারা পরস্পর ভালোবেসেছিল, আজ আমি তাদের আমার ছায়ায় স্থান দেব—যেদিন আমার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৬)

একজন মুমিনের ঈমান হল তার সবচেয়ে দামি সম্পদ। আমার ঈমান সবার আগে, সবকিছুর আগে। ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন কোনো কাজ করা কখনো কাম্য নয়। তাই রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালবাসে, আল্লাহর জন্য কারো প্রতি বিদ্বিষ্ট হয়, আল্লাহর জন্য কাউকে কিছু দেয় এবং আল্লাহর জন্যই দেওয়া থেকে বিরত থাকে—সে ঈমানকে পূর্ণ করল।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৭১)

আর ভালোবাসা যখন আল্লাহর জন্য হবে তখন তাতে যেমন নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তেমনি থাকবে নিজের ও অপরের সার্বিক কল্যাণকামিতা। সকল চিন্তা ও সিদ্ধান্তেই থাকবে মজবুত এক নিয়ন্ত্রণ। তখনই জীবনের প্রতিটি ভালোবাসা ইবাদতে পরিণত হবে এবং মানুষ অর্জন করবে চিরস্থায়ী সফলতা।

সাধারণত কেউ যখন কাউকে ভালোবাসে তখন তার কাছে যেমন নিজেকে ভালো রাখতে চায়, তেমনি তার সন্তুষ্টির প্রতিও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখে। খেয়াল রাখে তার খুশি-অখুশি, পছন্দ-অপছন্দ এবং ভালো লাগা না লাগা। সর্বোপরি তার সন্তুষ্টিই থাকে পরম আরাধ্য। আর সেজন্য মানুষ কত কষ্ট-যাতনা সহ্য করে। এতএব যাকে ভালোবাসলে আল্লাহর তাআলা অসন্তুষ্ট হন, তাকে যেমন ভালোবাসা যাবে না, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসার আতিশয্যে যেসব কাজ আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে আবশ্যক করে, তা থেকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে বাঁচতে হবে । এ বিষয়ে রাসুল (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর নাফরমানি করে কোনো মাখলুকের আনুগত্য করা যাবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২০৬৫৩)

সর্বশেষ সংবাদ

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন মহানগরী হিসেবে গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ঢাকা শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন মহানগরী করার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ