ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে আবারো বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। এছাড়া চলমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপের নেতাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, অভিবাসনই ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতার মূল কারণ।
এর আগের দিনও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট। গত রোববার ট্রাম্প বলেন, ‘এটা (বিক্ষোভ-সহিংসতা) অভিবাসনের কারণেই হচ্ছে। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছি, তোমাদের সীমান্ত বন্ধ করো।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার স্থানীয় সময় গভীর রাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন বড় শহরে আংশিক কারফিউ জারির ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। গত কয়েকদিনের সহিংস বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নিজের এক কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক আগেই আমি তাকে বলেছিলাম, ফ্রান্সে তোমরা বড় ভুল করছ। তোমরা সারা বিশ্বের মানুষকে দেশে ঢুকতে দিচ্ছ। পুরো বিশ্বই সেখানে চলে যাচ্ছে।’
৮০ বছর বয়সী মার্কিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘শিগগিরই প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে’। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যদি সীমান্ত বন্ধ না করে এবং বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মতো অপরাধীদের বের করে না দেয়, তাহলে ইউরোপের পতন অনিবার্য।’
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে এমন কিছু দাবি করেছিলেন, যেগুলো সত্য ছিল না এবং জাতিগত ভীতিকে উসকে দিয়েছিল।

