spot_img

জাতীয় নেতার জন্মবার্ষিকী ঘিরে চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা, নাগরিকদের কড়া নির্দেশ

অবশ্যই পরুন

চীনের শেষ রাজতন্ত্রের পতনে নেতৃত্ব দেওয়া বিপ্লবী নেতা সান ইয়াৎ-সেনের জন্মবার্ষিকী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে। আগামী মাসে চীনে আয়োজিত সান ইয়াৎ-সেনের জন্মবার্ষিকীর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে নিজেদের নাগরিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে তাইওয়ান সরকার। বেইজিং সান ইয়াৎ-সেনের ইতিহাসকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগ তুলে এ নির্দেশ দিয়েছে তাইপে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডবিষয়ক কাউন্সিল (মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল) নাগরিকদের এ সতর্কবার্তা দেয়। কাউন্সিলের অভিযোগ, চীন সান ইয়াৎ-সেনের ইতিহাসকে বিকৃত করে ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং একত্রীকরণ’ নীতি প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাইওয়ানের নাগরিকদের চীনে গিয়ে কমিউনিস্টদের প্রচারণায় প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

আগামী ১২ নভেম্বর সান ইয়াৎ-সেনের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে চীন বড় ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তরও কোনো মন্তব্য করেনি।

চীন ও তাইওয়ান—দুই পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ সান ইয়াৎ-সেন

১৯১১ সালের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে চীনের কয়েক শতাব্দীর রাজতন্ত্রের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সান ইয়াৎ-সেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘রিপাবলিক অব চায়না’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯২৫ সালে তার মৃত্যু হয়। চীনে তিনি একজন মহান জাতীয় বীর, দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, তাইওয়ানেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে সম্মান করা হয়।

তবে ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর রিপাবলিক অব চায়নার সরকার তাইওয়ানে চলে যায়। দ্বীপটির আনুষ্ঠানিক নাম এখনো রিপাবলিক অব চায়না। অন্যদিকে, মূল ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী চীন।

এই ঐতিহাসিক পটভূমিই সান ইয়াৎ-সেনকে ঘিরে দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সান ইয়াৎ-সেনকে ঘিরে শি জিনপিংয়ের বক্তব্য

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালে এক ভাষণে সান ইয়াৎ-সেনকে উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি সব সময় দেশের বিভক্তির বিরোধিতা করতেন। শি জিনপিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মাতৃভূমির সম্পূর্ণ একত্রীকরণ চীনা জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে। তবে তাইওয়ানের বর্তমান সরকার নিজেদের স্বশাসন ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস নিয়েও বিরোধ

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবং তার ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) চীনের তুলনায় তাইওয়ানের স্বতন্ত্র পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে।

বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ে কার ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তাইওয়ানের বক্তব্য, সে সময় মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল রিপাবলিক অব চায়নার সরকার। কারণ, ১৯৪৯ সালের আগে বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অস্তিত্ব ছিল না।

এদিকে, বেইজিং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, লাইয়ের অবস্থান—তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল দ্বীপটির জনগণের।

এমন পরিস্থিতিতে সান ইয়াৎ-সেনের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী ঘিরে চীনের পরিকল্পিত আয়োজন এবং তাতে যোগ না দিতে তাইওয়ানের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, নিরাপত্তা ও আনন্দ-উৎসবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উদযাপিত...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ