জাপানে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে স্বর্ণপদকের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে দলের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
তবে জাপানে যাওয়ার আগেই সীমিত অনুশীলন-সুযোগের বিষয়টি খেলোয়াড়দের জানিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন লিটন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে থাকতেই দল বেশ অনুশীলন করেছে। জাপানে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ কমে যেতে পারে—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই খেলোয়াড়দের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল।
জাপানের আবহাওয়া নিয়েও তখন লিটন বলেছিলেন, পরিস্থিতি সব দলের জন্যই একই এবং আবহাওয়ার ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই পাওয়া সুযোগ-সুবিধা ও সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অনুশীলনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
লিটন বলেন, ‘কখনোই আদর্শ নয়। তবে আপনি যদি দেখেন, আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, তার সঙ্গে আমরা টসও হেরে গেছি। তাই আমাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। উইকেটটাও একটু কঠিন ছিল।’
ব্যাটিং বিপর্যয়ের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে শেষ কয়েক দিন কোনো খেলাও দেখিনি এবং উইকেটে অনুশীলনের সুযোগও পাইনি। তাই কোনো ধারণা ছাড়াই প্রথম কয়েক ওভার ব্যাটিং করেছি। এরপর ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানরা উইকেট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে।’
ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং নিয়েও কথা বলেন লিটন। বিশেষ করে মাঝের ওভারে বোলিংয়ের ঘাটতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমরা মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, ওভার বাউন্ডারি কম খেতাম, তাহলে সুযোগ বেশি ছিল।’
মোস্তাফিজুর রহমানকে বোলিংয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন অধিনায়ক। জবাবে লিটন বলেন, ‘আজকে মোস্তাফিজ তিন উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। এত দিন তো করে আসছে। আমার কাছে মোস্তাফিজই সেরা অপশন মনে হয়েছে, তাই করিয়েছি।’
এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
লিটন বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সোনা পেতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি। তবে চেষ্টা তো করেই যাব। আবার ভবিষ্যতে কোনো না কোনো দল আসবে, তারাও চেষ্টা করবে। কিন্তু যখন কিছু জিনিসের ঘাটতি থাকে, তখন অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’

