spot_img

ব্রাজিল ফুটবলে বড় ধাক্কা

অবশ্যই পরুন

মাঠে কোনো ম্যাচ হয়নি, তবু ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নেমে এসেছে বড় ধাক্কা। কারণ মাঠের বাইরের একটি সরকারি সিদ্ধান্ত। দেশটিতে অনলাইন বেটিং কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম ও বিজ্ঞাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাবগুলো।

প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ২৫ সেপ্টেম্বর অনলাইন বেটিং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নির্বাহী আদেশে সই করেন। সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ফুটবলে এর সম্ভাব্য প্রভাব।

কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের ক্লাব ফুটবলের অর্থনীতিতে বেটিং কোম্পানিগুলো বড় স্পনসর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগের ২০ ক্লাবের মধ্যে ১৪টির প্রধান স্পনসরই কোনো না কোনো বেটিং প্রতিষ্ঠান। ফলে এই অর্থের প্রবাহ বন্ধ হলে ক্লাবগুলোর আয়, খেলোয়াড় কেনাবেচা এবং বড় অঙ্কের চুক্তিতে চাপ তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকা ক্লাবগুলোর একটি ফ্ল্যামেঙ্গো। বেটিং প্রতিষ্ঠান বেটানোর সঙ্গে ক্লাবটির বার্ষিক চুক্তির মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার—দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে যা অন্যতম বড় স্পনসরশিপ চুক্তি। নিষেধাজ্ঞার পর ক্লাবটির সভাপতি লুইজ এদুয়ার্দো বাতিস্তা প্রশ্ন তুলেছেন, স্পনসরশিপের অর্থ বন্ধ হয়ে গেলে বড় খেলোয়াড় কেনার ব্যয় কীভাবে সামলানো হবে।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যের সঙ্গেও বেটিং অর্থের যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা চলছে। কোপা লিবার্তাদোরেসের সর্বশেষ ১৪টি ফাইনালের ১২টিতেই ছিল অন্তত একটি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব। দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে দামি ১০টি ক্লাবের মধ্যে নয়টিই ব্রাজিলের বলে ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে।

লুলা অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না। অনলাইন বেটিংকে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জুয়া নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এর সামাজিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে বেটিং খাতের সংগঠনগুলো। তারা এটিকে অসাংবিধানিক দাবি করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাবগুলোর সামনে এখন নতুন করে স্পনসর খোঁজার চ্যালেঞ্জ।

সমস্যা হচ্ছে, একসঙ্গে অনেক ক্লাব নতুন স্পনসর খুঁজতে বাজারে নামলে আগের মতো অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এতে স্পনসরশিপের বাজারমূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

ব্রাজিলের ক্লাবগুলো তাই এখন এক অস্বস্তিকর হিসাবের সামনে। যে বেটিং অর্থ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের দল গড়া ও তারকা খেলোয়াড় কেনার সক্ষমতা বাড়িয়েছে, সেই অর্থের পথই যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে ব্রাজিলের আর্থিক আধিপত্য কতটা টিকে থাকবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সর্বশেষ সংবাদ

‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে মমতার হুংকার, স্বাগত জানালেন সোনিয়া

ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোরালো বক্তব্যে করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ