spot_img

বেইজিং শিয়াংশান ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

অবশ্যই পরুন

চীনের বেইজিংয়ে ১৫-১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১৩তম বেইজিং শিয়াংশান ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফোরামের চতুর্থ প্লেনারি অধিবেশনে ‘The Role and Vision of Developing Countries’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশ সশস্ত্র সংঘাত, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জলবায়ুজনিত চাপের কারণে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রেখেছে। দেশের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা, উন্নয়ন ও আস্থা তৈরির একটি কাঠামো সৃষ্টি করেছে। তবে কিছু অনিষ্পন্ন বিরোধ, সশস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সংলাপ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি বছরের জুন মাসের চীন সফর দুই দেশের ‘Comprehensive Strategic Cooperative Partnership’-এ নতুন গতি সঞ্চার করেছে। অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিল্পায়ন, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সবুজ উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অবদানের কথা তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব দেশ কেবল বৈশ্বিক নিরাপত্তা সিদ্ধান্তের অনুসারী নয়; বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি, জাতীয় সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, বহুমুখী অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, সাইবার সহনশীলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাকে তিনি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—সংঘাত সৃষ্টির আগেই প্রতিরোধমূলক কূটনীতি, আগাম সতর্কীকরণ ও আঞ্চলিক সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদার করা; সাইবার সহযোগিতা, উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, জলবায়ু অভিযোজন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষার মাধ্যমে সম্মিলিত সহনশীলতা বৃদ্ধি করা; এবং সংঘাতপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, জীবিকা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও স্থানীয় আস্থা জোরদার করা।

বক্তব্য পর্বের পর একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এসব প্রশ্নের উত্তর যৌক্তিক ও তথ্যবহুলভাবে প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং বিশিষ্ট নিরাপত্তা প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সঠিক ছিল না, মেনে নিয়েছে দলটি: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করে বলেছেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না,...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ