spot_img

জ্বালানিসংকট সমাধানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার

অবশ্যই পরুন

দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানিসংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের যে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে এই যে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানিসংকট, এর থেকে বের করে আনার জন্য বর্তমান সরকার কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’ গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খনন/ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপ খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপ খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপসমূহ খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন।’ অফশোর এবং অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এ টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (গ্যাস) সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্রোপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন দু-একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন হলে সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানিনিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।’

এদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের কারণে দেশে ৯২টি বা ২০০ থেকে ৩০০ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াসংক্রান্ত প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বিকালে সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।

সর্বশেষ সংবাদ

তিন বছরে ৪ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে ৪০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে বলে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ