এক রাতের ব্যবধানে দ্বিগুণ আঁকার ধারণ করেছে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের দাবানল। জরুরি সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর, দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।
শনিবার (৮ আগস্ট) দাবানল ছড়িয়ে পড়ে ৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকায়। যার কারণে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। এর পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই এলাকার হাইওয়ে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ওই সময় পুরো প্রদেশে ১০০টিরও বেশি দাবানল সক্রিয় ছিল। তীব্র গরম, প্রবল বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এসব আগুনের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস সামারল্যান্ডের পুরো এলাকাকেই শুক্রবার রাতে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাশের পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৮ হাজার মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি জানান, আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করতে হয়েছে। ফায়ার লাইনের পেছনের এলাকাগুলোতেও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সেখানে কেউ আটকা পড়ে থাকলে তাকে উদ্ধার করা যায়।
ইবি বলেন, ‘মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথমবার বাল্ড রেঞ্জের দাবানলের খবর পাওয়া যায়। এরপর আগুন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ছোট্ট ফাউল্ডার সম্প্রদায়টি আগুনের কবলে পড়ার পর মাত্র ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আগুন দ্রুত সামারল্যান্ডের দিকে এগিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হওয়ায় দাবানলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অতিরিক্ত তাপে গাছপালা ও অন্যান্য উদ্ভিদ শুকিয়ে যাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যেও চলতি মাসে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছে। এসব আগুনের ধোঁয়ার কারণে পুরো অঞ্চলের বায়ুর মানও খারাপ হয়েছে।

