spot_img

বিশ্বকাপের মাঝেই রোনালদোর পোস্ট নিয়ে এত বিতর্ক কেন

অবশ্যই পরুন

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ইউরো ২০১৬ জয়ের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে পর্তুগিজ মহাতারকার দেওয়া সেই পোস্ট একদিকে যেমন ভক্তদের আবেগে ভাসিয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর এমন সময়ে স্মৃতিচারণ করায় সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি।

নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার কয়েক দিনের মধ্যেই রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরো ২০১৬ জয়ের মুহূর্ত স্মরণ করেন। পর্তুগালের ইতিহাসে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের সেই গৌরবময় অধ্যায়কে সামনে এনে তিনি লেখেন, ‘A Victory of Millions’ (লাখ মানুষের জয়)।

রোনালদোর এই পোস্ট মূলত ছিল পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য উদযাপনের অংশ। ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল পর্তুগাল। সেই ঐতিহাসিক অর্জনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

তবে বিশ্বকাপ থেকে সদ্য বিদায়ের পর রোনালদোর এই পোস্টের সময় নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। অনেক সমর্থক মনে করেন, দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি স্মরণ করতেই এমন পোস্ট করেছেন তিনি। তাদের মতে, রোনালদোর জন্য ইউরো ২০১৬ একটি বিশেষ আবেগের জায়গা এবং সেই স্মৃতি তুলে ধরা স্বাভাবিক।

অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পরপরই অতীতের সাফল্য নিয়ে পোস্ট করা ঠিক সময়ের সিদ্ধান্ত ছিল না। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, রোনালদো এখনও পুরোনো গৌরবের স্মৃতিতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন এবং বর্তমান ব্যর্থতা থেকে আলোচনার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদোর একটি মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় আসে। ইউরো ২০১৬ জয়কে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, এই সাফল্য তার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

রোনালদো বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার আগে পর্তুগাল একটি বড় আন্তর্জাতিক ট্রফিও জেতেনি। জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ইউরো ২০১৬, আর সত্যি বলতে এটি আমার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

তার এই বক্তব্যের পরও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেকে তার কথাকে বাস্তবতা ও আবেগের প্রকাশ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ মনে করেন বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ব্যর্থতার পর এমন তুলনা বিতর্ক তৈরি করতেই পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের যাত্রা শেষ হয় শেষ ষোলোতেই। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় দলটি। ম্যাচের আগে রোনালদো জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ ফিফা বিশ্বকাপ। ফলে পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর ছিল তার দিকে।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো ও ব্রুনো ফার্নান্দেস একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি। শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি রোনালদো। আবেগঘন সেই দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে।

তবে বিতর্কের মধ্যেও পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে রোনালদোর অবদান নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তার দখলে। ইউরো ২০১৬-তে পর্তুগালকে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দেওয়ার পাশাপাশি উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ না হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। শেষ বিশ্বকাপ তার জন্য হতাশার হলেও, দুই দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা অসাধারণ ক্যারিয়ার তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সমস্যা থাকলেও ভারতের সাথে আলোচনার পথ বন্ধ নেই: হুমায়ুন কবির

ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ