অবশেষে নিজের ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের দামটা যেন মাঠে বুঝিয়ে দিলেন আলেক্সান্ডার ইসাক। ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম নয় মিনিটেই জোড়া গোল করে লিভারপুলকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাফোকের ম্যাচটি ছিল লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে প্রথম জয়। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমেও এটি দলটির প্রথম জয়। নতুন করে গড়া লিভারপুলের আক্রমণভাগে ইসাকের এমন পারফরম্যান্স তাই স্বস্তি দিয়েছে কোচ ও সমর্থকদের।
তবে সদ্য প্রিমিয়ার লিগে ওঠা ইপসউইচের বিপক্ষে এই জয়কে খুব বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গত সপ্তাহেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে পাঁচ গোল হজম করেছিল দলটি। লিভারপুলের মতো আক্রমণভাগের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের রক্ষণ যে কঠিন পরীক্ষায় পড়বে, সেটিই প্রমাণ হয়েছে ম্যাচে।
ইসাকের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত গ্রীষ্মে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে রেকর্ড ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।
ফিটনেসের ঘাটতি নিয়ে দলে যোগ দেওয়ার পর চোটও ভুগিয়েছে তাকে। পুরো মৌসুমে ২২ ম্যাচে মাত্র ১ হাজার ৩৩ মিনিট মাঠে থেকে করেছিলেন চার গোল। প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচে ৭০৩ মিনিট খেলে গোল করেছিলেন মাত্র তিনটি।
তবে এবার শুরুতেই সেই হিসাব বদলে দিয়েছেন ইসাক। চলতি মৌসুমে লিগে নিজের গোলসংখ্যা ইতোমধ্যে তিনে নিয়ে গেছেন তিনি।
ইপসউইচের বিপক্ষে ইসাককে দেখা গেছে তার সেরা রূপে— রক্ষণভাগের পেছনে দ্রুত দৌড়, তীব্র গতিতে প্রেসিং এবং সুযোগ পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিং। নিউক্যাসলের সেই ভয়ংকর বৈশিষ্ট্যগুলো, এবার লিভারপুলের জার্সিতেও দেখা গেল।
ইসাকের পাশাপাশি নজর কেড়েছেন কোডি গাকপোও। ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সেই দলবদল ভেস্তে যাওয়ায় লিভারপুলেই থেকে গেছেন তিনি। ইসাকের সঙ্গে তার সমন্বয়ও আক্রমণভাগে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
আর ১২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডে পিএসজি থেকে আসা ব্র্যাডলি বারকোলাও অভিষেকে ২৬ মিনিটে দুর্দান্ত গতি দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে ইরাওলার জন্য লিভারপুলের নতুন অধ্যায়ের শুরুটা হয়েছে বেশ আত্মবিশ্বাস জাগিয়েই।

