spot_img

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেন, উরুগুয়ের বিদায়

অবশ্যই পরুন

দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, একসময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। অথচ ইতিহাস আর ঐতিহ্যের ভার এবারও বাঁচাতে পারল না উরুগুয়ে। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে। স্পেনের কাছে হার আর দুটি হতাশাজনক ড্র, সব মিলিয়ে স্বপ্নভঙ্গের আরেকটি অধ্যায় লিখল সেলেস্তেরা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে নিজেদের মাটিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে তারা। এরপর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

একসময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দল হিসেবে পরিচিত উরুগুয়ে এখন যেন হারিয়ে ফেলেছে সেই ধার। কাতার বিশ্বকাপের পর এবারও তারা থেমে গেল গ্রুপ পর্বেই। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের হারে বিদায়ের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে যায় উরুগুয়ের। এর আগে সৌদি আরব ও বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই ড্র করে তারা।

ফলে তিন ম্যাচে জয়শূন্য থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয়েছে উরুগুয়েকে। কাগজে-কলমে দুটি ড্র থাকলেও পারফরম্যান্স ও প্রত্যাশার বিচারে এবারের বিশ্বকাপ থেকে কার্যত শূন্য হাতেই বিদায় নিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গুয়াদালাহারায় স্পেন ও উরুগুয়ের ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে প্রথমার্ধের ৪২তম মিনিটে। গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার বড় ভুলে স্পেন এগিয়ে যায়। গোলটির প্রেক্ষাপট ছিল দারুণ এক আক্রমণে। ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে উরুগুয়ের রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢোকেন মার্কোস লোরেন্তে। সেখান থেকে তিনি অত্যন্ত নিখুঁত ও নিচু একটি পাস বাড়ান ডি-বক্সের ভেতরে থাকা বায়েনার উদ্দেশে। বায়েনা প্রথম স্পর্শেই বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত ঘুরে শট নেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের সেই শটটি খুব বেশি শক্তিশালী ছিল না।

সরাসরি উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরার হাতেই গিয়েছিল বলটি। কিন্তু অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক বলটি দু’হাতে নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তার হাত ফসকে বলটি ধীরে ধীরে গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়। গোলটি হজম করার পর মুসলেরাকে অত্যন্ত হতাশায় মাথা নাড়তে দেখা যায়।

এই গোলটির পর উরুগুয়ের ডিফেন্স লাইনে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এরপর দুই দলই বেশ কিছু আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও কেউই আর গোলের দেখা পায়নি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধে কোনো দলই গোল পায়নি। স্পেন বাড়াতে পারেনি লিড। উরুগুয়ে পারেনি গোল শোধ করতে। তাতে যা হবার তাই হয়েছে। বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় উরুগুয়ের। শেষ দিকে বেশ রোমাঞ্চ, উত্তেজনা ছড়ায়। পেশি শক্তির প্রদর্শণীতে মেতে উঠে দুই দল। সেই ফলশ্রুতিতে ম্যাচের শেষ দিকে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের আগুস্তিন কানোবিও। লাল কার্ড দেখার পরও কানোবিওর আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। মাঠ ছাড়ার আগে রেফারির দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিবাদ করেন। এজন্য বড় শাস্তিও পেতে পারেন তিনি।

একসময় বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখানো উরুগুয়ে এখন যেন হারিয়ে ফেলেছে পুরোনো ধার। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটির সামনে তাই আত্মসমালোচনা ও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জই সবচেয়ে বড়। ইতিহাসের গৌরব যতই উজ্জ্বল হোক, বর্তমানের বাস্তবতা বলছে, বিশ্বমঞ্চে আবারও নিজেদের প্রমাণ করতে হলে উরুগুয়েকে নতুন পথ খুঁজে নিতেই হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

ক্ষুধার সমস্যা সমাধানে যুক্তরাস্ট্রেরই সাহায্য প্রয়োজন: বাঘাঈ

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাঈ এক্স চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় লিখেছেন, ক্ষুধার সমস্যা সমাধানে আমেরিকার নিজেরই ব্যাপক সাহায্যের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ