আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়া-পাকিস্তান ওয়ার্কিং গ্রুপের ১২তম বৈঠক দুই দেশের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার সময় এই সহযোগিতা শুরু হয়েছে, যা যৌথ কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক সুলতান এম. হালি বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক কাঠামো থেকে আলাদা। তাঁর মতে, এসব বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে প্রায়ই জটিল প্রক্রিয়াগত কারণে কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়।
রাশিয়ার কাছ থেকে পাকিস্তান বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে রাশিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে, বিশেষ করে শহরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনা এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে, যা রাশিয়া সিরিয়া ও উত্তর ককেশাসে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ দমন অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে মূল্যবান শিক্ষা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আইইডি (বিস্ফোরক) প্রতিরোধ, শহুরে অভিযান পরিচালনা এবং জিম্মি উদ্ধার কৌশল।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক দেখায় যে, রাশিয়া চীন ও ভারতের মতো ঐতিহ্যগত অংশীদারদের বাইরে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছে। একই সঙ্গে, মস্কোর সঙ্গে পাকিস্তানের এই সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত করে যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও চীনের মতো ঐতিহ্যগত মিত্রদের বাইরে তার প্রতিরক্ষা কূটনীতিকেও বৈচিত্র্যময় করছে। নজরদারি প্রযুক্তি ও সাইবার প্রতিরক্ষায় রাশিয়ার দক্ষতা পাকিস্তানের কার্যকরী চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে এবং যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।
এই অংশীদারিত্ব সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকেও শক্তিশালী করতে পারে, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি দেশটির অঙ্গীকার তুলে ধরা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা অনুপ্রবেশের কৌশল বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া, সোয়াতের সাবাওন কর্মসূচির মতো পাকিস্তানের উগ্রবাদমুক্তকরণ (ডি-র্যাডিক্যালাইজেশন) উদ্যোগ রাশিয়াকে মধ্য এশিয়ার প্রেক্ষাপটে অ-সামরিক উপায়ে উগ্রবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মূল্যবান অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা কোনো এককালীন বৈঠকের ফল নয়; বরং এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের প্রতিফলন। নজরদারি ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ উভয় দেশই তাদের কৌশলগত ও সামরিক সক্ষমতা আরও উন্নত করতে আগ্রহী।
রাশিয়া ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটগুলোর পরিবর্তিত চিত্রের ইঙ্গিত দেয়, যার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রভাবও থাকতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসলামাবাদ

