২০২৬ বিশ্বকাপে চালু হওয়া বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। তার মতে, ম্যাচের মাঝখানে নিয়মিত খেলা থামিয়ে দেওয়ার এই ব্যবস্থা ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ও সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচের আগে স্থানীয় সময় সোমবার সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এর প্রভাব হয়তো কম হবে, কিন্তু বাস্তবে এটি ম্যাচের পরিচয়ই বদলে দিচ্ছে।’
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধে একবার করে তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি বাধ্যতামূলক করেছে। আবহাওয়া বা স্টেডিয়ামের অবস্থা যেমনই হোক, এই নিয়ম কার্যকর রাখা হচ্ছে। তবে সোমবার ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচে বজ্রঝড়ের কারণে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধের বিরতি বাতিল করা হয়েছিল।
নতুন এই নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে সমর্থকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচে হাইড্রেশন বিরতির সময় দর্শকদের দুয়োধ্বনি শোনা গেছে। সমালোচকদের দাবি, এটি কার্যত টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক বিরতির সুযোগ তৈরি করেছে।
টুখেল বলেন, ‘আগেও প্রচণ্ড গরমে হাইড্রেশন বিরতি দেখেছি, কিন্তু সেগুলো ছিল সীমিত এবং সময়েও ছোট। এখন এটি সব দলের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ম্যাচ যেন চারটি কোয়ার্টারে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়া ভালো লাগে। কিন্তু আমি ফুটবলকে ভালোবাসি তার ধারাবাহিকতার জন্য। খেলা একটানা চললে একটি ছন্দ তৈরি হয়, গতি তৈরি হয়। এখন সেই গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
ইংলিশ কোচের মতে, ম্যাচের ভেতরে তৈরি হওয়া চাপ, ছন্দ ও লড়াই ফুটবলের অন্যতম সৌন্দর্য।
‘মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে লড়াই চলে, তা সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠে। হাইড্রেশন বিরতি সেই স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপ করে। আমার মনে হয় এটি ফুটবলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য কেড়ে নিচ্ছে,’ বলেন টুখেল।
তবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন তিনি।
‘ন্যায্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে অবশ্যই এর যুক্তি আছে। সবাই একই সুবিধা পাচ্ছে,’ যোগ করেন ইংল্যান্ড কোচ।
বুধবার বোস্টনে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে গরমের কারণে নয়, বরং আবহাওয়ার কারণেই খেলা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে হাইড্রেশন বিরতির সময়টুকু কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে টুখেলের।
‘আমরা অবশ্যই সময়টাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করব। কিছু পরিকল্পনা আছে, কিন্তু খুব বেশি নির্দিষ্ট কিছু নয়। কারণ ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে চাই। মাঠে যা ঘটবে, তার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিক্রিয়া জানানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

