ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় কৃষ্ণসাগরে দুটি বেসামরিক জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল চীনা মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ। ঘটনাটি ঘটেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের ঠিক আগের দিন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি জাহাজের একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং অন্যটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ছিল। উভয় জাহাজই ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী জানায়, হামলার শিকার হওয়া চীনা মালিকানাধীন জাহাজটির নাম ‘কেএসএল দেইয়াং’। এটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী হলেও জাহাজটিতে চীনা ক্রু ছিল। প্রকাশিত ছবিতে জাহাজটির এক পাশ আংশিকভাবে আগুনে পোড়া দেখা যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘ড্রোন হামলায় ওডেসা আক্রান্ত হয়েছে এবং একটি ড্রোন চীনের মালিকানাধীন একটি জাহাজে আঘাত হেনেছে। রুশ বাহিনী নিশ্চয়ই জানত যে জাহাজটি সমুদ্রে ছিল।’
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক জানান, জাহাজটির সব ক্রুই চীনা নাগরিক এবং কেউ আহত হননি। হামলার পরও জাহাজটি তার গন্তব্যের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
সূত্র জানায়, জাহাজটি তখন খালি অবস্থায় ছিল এবং ইউক্রেনের পিভদেননি বন্দরে লোহার আকরিক বোঝাই করতে যাচ্ছিল।
এদিকে জেলেনস্কি দাবি করেন, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫২৪টি ড্রোন ও ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।
চীন শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার আহ্বান জানালেও ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের সরাসরি নিন্দা করেনি এবং নিজেদের নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

