spot_img

শুরুতে কমলেও আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম

অবশ্যই পরুন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সোমবার কিছুটা বেড়েছে। যদিও দিনের শুরুতে মূল্যবান এ ধাতুর দাম কমে গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ডের ফলন বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের বড় ধরনের উত্থান এখনো চাপে রয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৪ ডলারে। এর আগে দিনের শুরুতেই স্বর্ণের দাম কমে ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার বাজারে আগামী মাসের সরবরাহ চুক্তির দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৯ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রেডু ডটকম’ এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জ্যাবৌরাস বলেন, স্বর্ণের বর্তমান দরপতন সাময়িক এবং বাজার কাঠামোগতভাবে এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, বাজার এখনো স্বর্ণকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দাভাবের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো অবস্থায় যায়নি।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে—এমন সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। বরং বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখন সুদের হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদের ওপর চাপ বাড়ে।

এদিকে টোকিও থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বৈশ্বিক বন্ডবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।

ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রেডু ডটকম’-এর ‘ফেডওয়াচ’ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ দেখছেন।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমে যাওয়ায় বড় বড় বিনিয়োগ ব্যাংকও স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস কমাতে শুরু করেছে। JPMorgan Chase তাদের ২০২৬ সালের স্বর্ণের গড় মূল্য পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ৫ হাজার ২৪৩ ডলারে নামিয়েছে।

ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, সামনের সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সুদের হার নিয়ে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা কমে এলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও স্বর্ণের চাহিদা আবার বাড়তে পারে।

স্বর্ণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১ হাজার ৯৭৩ দশমিক ৩২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১৬ দশমিক ৫৫ ডলারে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সংবাদ

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে কিমের বোনের কড়া বার্তা

উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক শক্তি ক্রমাগত বাড়াতেই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাধর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ