আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার সকালে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে আশাবাদ এবং শক্তিশালী করপোরেট আয়ের খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দিনের শুরুতে ০.৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫৫ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে হামলার ঝুঁকি না রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করছে—এমন খবরের পর তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে।
তবে পরে অস্ট্রেলিয়ায় একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলে দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। এতে ব্রেন্ট ক্রুড ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.২৩ ডলারে ওঠে।
এদিকে, ইতিবাচক বৈশ্বিক ইঙ্গিতের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক প্রারম্ভিক লেনদেনে ২.২ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। জাপানের বাইরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ার সূচক ০.৯ শতাংশ বেড়েছে, যা টানা তৃতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারা নির্দেশ করছে।
মার্কিন বাজারের ফিউচারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এর আগে বুধবার ওয়াল স্ট্রিটে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। সেদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৮ শতাংশ এবং প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাক ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশেষ করে ব্যাংক অব আমেরিকা ও মর্গান স্ট্যানলির প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল বাজারকে উজ্জীবিত করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ শতাংশ কোম্পানি তাদের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে ৮৪ শতাংশই বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে।

