কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে টোল বা মাশুল আরোপ করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানি বাণিজ্য প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল দিতে হবে। একটি সুপার ট্যাংকার পার হওয়ার ক্ষেত্রে এই অংক কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। মজার বিষয় হলো, এই অর্থ কোনোভাবেই ডলারে পরিশোধ করা যাবে না; বরং চীনের মুদ্রা ইউয়ান অথবা ডিজিটাল কারেন্সি বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে দিতে হবে। তবে যেসব জাহাজে কোনো পণ্য থাকবে না, তাদের কোনো ফি দিতে হবে না।
হরমুজ পারাপারে ইরানের নতুন শর্তাবলি:
১. আগাম নোটিশ: জাহাজ চলাচলের আগে ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্যসহ আগাম নোটিশ দিতে হবে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
২. নির্দিষ্ট রুট: জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূল ঘেঁষে বিশেষ করে কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে চলতে হবে।
৩. মিত্র ও শত্রু দেশ: ইরানের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো সহজে পার হতে পারলেও শত্রুভাবাপন্ন দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোরতা বজায় রাখা হবে।
৪. আগাম টোল: জাহাজ পার হওয়ার আগেই নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।
কেন ইউয়ান ও ক্রিপ্টোকারেন্সি?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের মাধ্যমে লেনদেন করা ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন শনাক্ত করা কঠিন এবং ইউয়ানে পেমেন্ট নিলে পশ্চিমা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না। আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান ইতিমধ্যে ইউয়ানে টোল আদায় শুরু করেছে।
আরব দেশগুলোর উদ্বেগ
ইরানের এই পদক্ষেপ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। তারা মনে করছে, এই ব্যবস্থার ফলে বিশ্ব তেলের বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলাকালীন এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে।

