spot_img

আল্লাহভীতি মুমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য

অবশ্যই পরুন

সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহপাকের জন্য। অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.), তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর।

কল্যাণ ও সাঠিক পথ অনুসরণের দিকনির্দেশনা রয়েছে মহাগ্রন্থ কোরআনুল কারিমে। এটি প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এ কিতাবে আমাদের রব মুত্তাকিদের একটি বিশেষ গুণের কথা জানিয়েছেন। যারা হবে তাঁর ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও সম্মানের অধিকারী। আর এই গুণটি ইমানদারদের আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য এবং ইমানের সারকথা। ইমানের বাহন এবং ইহসানের পর্যায়ে পৌঁছার সোপান।

মহান আল্লাহ বলেন-‘আমি মুসা ও হারুনকে দিয়েছিলাম মীমাংসাকারী গ্রন্থ ও মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ, যারা না দেখেও তাদের রবকে ভয় করে এবং কিয়ামত সম্পর্কে থাকে ভীতসন্ত্রস্ত (আম্বিয়া : ৪৮-৪৯)।

কোরআনুল কারিমের সুরা ফাতির-এর ১৮ নম্বর আয়াত দ্বারা আল্লাহ বলেন, আপনি শুধু তাদেরই সতর্ক করুন, যারা তাদের রবকে না দেখে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আল্লাহ আরও বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই, কেবল তাঁকে ভয় করে। (ফাতির-২৮)

আল্লাহর ভয় হলো : আল্লাহকে সম্মান প্রদর্শন ও তাঁর সম্পর্কে জেনে তাঁকে ভয় করা বান্দার কর্তব্য। এ ভয় তাঁর সুন্দর নাম ও উন্নত গুণাবলি, প্রশংসাযোগ্য হিকমতপূর্ণ কর্ম ও বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তাঁকে ভয় করা। এটাই বাস্তবসম্মত এবং পরিপূর্ণ ভয়, যার অধিকারীদের কথা আল্লাহ উপরিউক্ত আয়াত দ্বারা বুঝিয়েছেন। স্বীয় রব সম্পর্কে বান্দার জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাবে তাঁর প্রতি বান্দার ভয় তত বেশি তৈরি হবে। অবশেষে সে ইহসানের পর্যায়ে উন্নীত হবে। ফলে সে এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন সে তাকে দেখছে। জান্নাত এমন ব্যক্তিরই নিকটবর্তী হবে এবং তাকেই ক্ষমার প্রতিশ্রুতিমূলক সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, আর জান্নাতকে এত কাছে নেওয়া হবে, যার সঙ্গে মুত্তাকিদের কোনো দূরত্ব থাকবে না। এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী হিফাজতকারীর জন্য, যারা গায়ের অবস্থায় দয়াময় আল্লাহকে ভয় করেছে ও বিনীত চিত্তে উপস্থিত হয়েছে (ক্বাফ-৩১) আরও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিশ্চয় যারা না দেখেও তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার (মূলক-১২)।

তাই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাকে ভয় করে এমন বান্দারাই সতর্কবাণী থেকে উপকৃত হয়। কেননা তাদের ভয় সত্য, যাতে কোনো কৃত্রিমতা নেই। আর এমন ভয়ের অধিকারীদেরই কিয়ামতের ময়দানে নির্ভয়ে বিশ্ব প্রভুর সামনে উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নবীকুলের শিরোমণি মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যেদিন আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। এদের একজন হলো সেই ব্যক্তি, যাকে উচ্চবংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়, কিন্তু সে এই বলে তাকে প্রত্যাখান করে যে আমি আল্লাহকে ভয় করি। আরেকজন ওই ব্যক্তি, যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে, ফলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয় (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।

কোরআন ও সুন্নাহর দলিল প্রমাণ করে যে আল্লাহর ভয় দুই রকমের যা পরস্পর সংগতিপূর্ণ-

(১). স্বীয় রবের ব্যাপারে বান্দার এই ভয়, যে তিনি তাকে কৃত গুনাহ অথবা ফরজ বিধান লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তি প্রদান করবেন। আর এ ভয়ের ফলে পাপকর্ম বর্জন করে চলা। যে ব্যক্তি কোনো অপরাধ করার পর আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে তওবা করে তার দিকে ফিরে আসে, সেও এই ধরনের ভয়ের অধিকারী। এই ধরনের ভয় কেবল তারাই করে যারা তাদের রবকে সম্মান প্রদর্শন করে

(২). আল্লাহকে ভয় করার আরেকটি উপায় হলো তাঁর সুন্দর নাম ও গুণাবলির মর্ম অনুধাবন করে তাঁর ইবাদত করা (সুরা : আল রাদ-৯-১০)। বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বলেন, মুমিন বান্দা আল্লাহর পথে খরচ করে ও দান করে। কিন্তু তার হৃদয়ে আশঙ্কা থাকে যে এটা তার রবের কাছে পৌঁছবে কি না? এমন ব্যক্তিই প্রকৃত মুমিন, কারণ সৎ আমল করা সত্ত্বেও সে আত্মতৃপ্তিতে ভোগে না।

তাই আসুন! আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি হে আল্লাহ! আপনি আমাদের প্রকাশ্য, নির্জন ও সর্বাবস্থায় আপনার ভয়ে ভীত হওয়ার তওফিক দান করুন। যা আমাদের আপনার অবাধ্য হওয়ার পথে বাধা দেবে এবং আপনার ইবাদত পালনে উদ্বুদ্ধ করবে।

লেখক : ইসলামিক গবেষক

সর্বশেষ সংবাদ

‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মারণাস্ত্রের ব্যবহার চায় না বিজিবি’

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারের পক্ষে নয় বিজিবি বলে জানিয়েছেন বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ