spot_img

শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের বিশেষ সুযোগ

অবশ্যই পরুন

কারো রমজান মাসের রোজা ছুটে গেলে তা সত্বর কাজা করা ওয়াজিব নয়। বরং এ ব্যাপারে প্রশস্ততা আছে; সুযোগ ও সময় মত তা কাজা করতে পারা যায়। একইভাবে কাফ্ফারাও সত্বর আদায় করা ওয়াজিব নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা মুসাফির হলে সে অপর কোনো দিন গণনা করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৪)

তবে কোনো কারণ ছাড়া কাজা রোজা আদায় করতে বিলম্ব করা মাকরুহ। এক রমজানের কাজা রোজাগুলো আগামী রমজান আসার আগে আদায় করে নেয়া ওয়াজিব। যদি বিনা কারণে আগামী রমজান পর্যন্ত বিলম্ব করে, তাহলে গুনাহগার হবে। তবে শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের বিশেষ সুযোগ আছে। আয়েশা (রা.) বলেন, আমার ওপর রমজানের যে কাযা হয়েছে তা পরবর্তী শাবান ছাড়া আমি আদায় করতে পারতাম না। ইয়াহইয়া (রা.) বলেন, নবী (সা.)-এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী (সা.)-এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৫০)

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হলে প্রতিবিধান হিসেবে শুধু কাজা করতে হয়, কাফফারা দিতে হয় না। এমন কিছু কারণ হলো—

১. রোজা রাখা অবস্থায় ইচ্ছা করে বমি করা,
২. বমির বেশির ভাগ মুখে আসার পর তা গিলে ফেলা,
৩. রমজানে মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব,
৪. ইসলাম ত্যাগ করলে,
৫. রোজায় প্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন দিলে,
৬. কুলি করার সময় অনিচ্ছায় গলার ভেতর পানি প্রবেশ করলে,
৭. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করালে,
৮. রোজাদারকে জোর করে কেউ কিছু খাওয়ালে,
৯. রাত অবশিষ্ট আছে মনে করে সুবেহ সাদিকের পর পানাহার করলে,
১০. ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে,
১১. মুখ ভরে বমি করলে,
১২. ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে, রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছা করে আরো কিছু খেলে,
১৩. বৃষ্টির পানি মুখে পড়ার পর তা খেয়ে ফেললে,
১৪. কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে,
১৫. জিহ্বা দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেললে,
১৬. অল্প বমি মুখে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে,
১৭. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় ভেতরে পানি চলে গেলে। (ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)

যদি কেউ তার ছুটে যাওয়া রোজা পিছিয়ে দিয়ে শীতের ছোট ছোট দিনে রাখে, তাহলে তাও তার জন্য বৈধ এবং যথেষ্ট। তাতেও মহান আল্লাহর ওই ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। তবে ঈদের পরে ওজর দূর হয়ে গেলে সুযোগ হওয়ার সাথে সাথে সত্বর কাজা রেখে নেওয়াই উচিত।

বছরের যে কোনো দিন কাজা রোজা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ দিনগুলো বাদ দিতে হবে। অর্থাত্ যেসব দিনে রোজা রাখা ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ সেসব দিন বাদ দিতে হবে। যেমন ঈদ উল ফিতরের দিন, ঈদ উল আজহারের তিন দিন ইত্যাদি। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি বছরের নির্দিষ্ট কোনো দিনে রোজা রাখবে বলে মানত করে, তাহলে সেই দিনও কাজা রোজা আদায় করা যাবে না। পিরিয়ডের কারণে যেসব নারী রমজানের সবগুলো রোজা রাখতে পারেননি, তারাও উপরোক্ত নিয়ম অনুসরণ করবে। (বুখারি শরিফ, হাদিস : ১৯৫০, মুসলিম, হাদিস : ১১৪৬)

হানাফি মাজহাব মতে, কাজা রোজা ও রমজানের রোজার নিয়তের সময়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। রমজানে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত নিয়তের সুযোগ থাকলেও কাজা রোজার ক্ষেত্রে তেমনটি নেই; বরং কাজা রোযার নিয়ত সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আগেই করতে হবে। দিনের বেলা কাজা রোজার নিয়ত করলেও তা নফল রোজা হিসেবে গণ্য হয়। (কিতাবুল আছল, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা ১৬৪)

সর্বশেষ সংবাদ

এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন: ইসি সচিব

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ