spot_img

বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে হারিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অর্থনৈতিক চাপ, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়, ইরান যুদ্ধ এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন বিশ্লেষণে। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তে পারে বিরোধী দলের বাধা। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহির চাপও বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আইওয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তাদের সাফল্য নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৪টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ৪৪। প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা ২৩১টি এবং রিপাবলিকানরা ১৩৯টি আসন পেয়েছে বলে প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাবের উল্লেখ রয়েছে। তবে সব আসনের ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এর মধ্য দিয়ে দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত রিপাবলিকানদের একক কংগ্রেসীয় নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছে।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয়
সিনেট নির্বাচনে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মেইনে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন পুনরুদ্ধার করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান জন হুস্টেডকে হারিয়ে আসন পুনরুদ্ধার করেছেন।

সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয়ও নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। অথচ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প-সমর্থিত মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট রয় কুপার। আইওয়ায় রিপাবলিকানদের আসনে জয় পেয়েছেন জোশুয়া টুরেক।

মেইনেও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন। এসব জয় সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি
শুধু সিনেট নয়, প্রতিনিধি পরিষদেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। কেনটাকি, নিউ জার্সি ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

ফ্লোরিডার কয়েকটি আসনেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করলেও বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রত্যাশিত ফল পায়নি রিপাবলিকানরা।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ
নির্বাচনের ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা গেছে। বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েল নীতির প্রভাব
নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা, যুদ্ধের ব্যয় এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির বিষয়ে সমালোচনা বেড়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসব বিষয় ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

নির্বাচনের দায় এড়ানোর চেষ্টা ট্রাম্পের?
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ওপর এক ধরনের গণরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে বারবার এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন নির্বাচনে তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হচ্ছে।

তবে নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পর নির্বাচনের ফলাফল থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতাম!’

ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বাড়বে। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত, কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সরকারি নথিপত্র তলবের সুযোগ পাবে বিরোধী দল।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় পদে নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের ভূমিকা বাড়বে।

এ ছাড়া আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, নতুন নির্বাচিত কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে। ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, ইরান যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে। পার্সটুডে

সর্বশেষ সংবাদ

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ