spot_img

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী ম্যাক্সওয়েল

অবশ্যই পরুন

বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক ডাবল সেঞ্চুরি, ব্যাট হাতে অসম্ভবকে সম্ভব করার সামর্থ্য আর কার্যকর অফ স্পিন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে মনে রাখার কারণের অভাব নেই। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে এমন অনেক স্মৃতি উপহার দেওয়া এই অলরাউন্ডার এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। শেষ হলো তার ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণেই খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে দেশের হয়ে খেলেছেন ৭টি টেস্ট, ১৪৯টি ওয়ানডে ও ১৩০টি টি-টোয়েন্টি। সোমবার (২ নভেম্বর) তার অবসরের খবর প্রকাশ করেছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাক্সওয়েলের পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বল হাতেও কতটা কার্যকর ছিলেন তিনি। ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৯৯০ এবং টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ৮৯৭ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। টেস্টে তার সংগ্রহ ৩৩৯ রান। তিন সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেট নিয়েছেন ১৩৬টি।

২০১২ সালের ২৫ আগস্ট শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় ম্যাক্সওয়েলের। একই বছরের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক। পরের বছর মার্চে হায়দরাবাদে ভারতের বিপক্ষে খেলেন প্রথম টেস্ট।

এরপর সময়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে তার আগ্রাসী ব্যাটিং ও দ্রুত ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

ম্যাক্সওয়েলের ক্যারিয়ারের অর্জনের তালিকায় রয়েছে তিনটি বিশ্বকাপের শিরোপা। ২০১৫ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে জিতেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।

তবে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার ইনিংসটি আলাদা করেই মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। শুধু ম্যাচ জেতানো নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একজন ব্যাটসম্যান কতটা অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে পারেন, তারই উদাহরণ হয়ে আছে সেই ম্যাচ।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের দেওয়া ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় চরম বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৯১ রানের মধ্যেই দলটি হারায় ৭ উইকেট। সেখান থেকে ম্যাচ জেতার আশা তখন প্রায় শেষ বলেই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু ম্যাক্সওয়েল হাল ছাড়েননি। তীব্র পেশির টানে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল তার। কখনো শরীর সোজা রাখতে পারছিলেন না, কখনো ব্যথায় থেমে যেতে হচ্ছিল। তবু ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একের পর এক বাউন্ডারি ও ছক্কায় ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেন।

মাত্র ১২৮ বলে ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় ২০১ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ১২ রানে অপরাজিত থেকে তাকে সঙ্গ দেন। অষ্টম উইকেটে দুজনের ২০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৯ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।

ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার কোনো পুরুষ ব্যাটসম্যানের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি ছিল এটি। এই ইনিংস বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় হয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত সেই আসরের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপাও জেতে অস্ট্রেলিয়া।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাক্সওয়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল অবসরের ঘোষণার আগেই। ২০২৫ সালের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালই ছিল এই সংস্করণে তার শেষ ম্যাচ।

২০২৬ সালের এপ্রিলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৭ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা থেকেও বাদ পড়েন ম্যাক্সওয়েল। এরপর মে-জুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও জায়গা হয়নি তার। নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে গিয়ে নির্বাচকেরা অভিজ্ঞ কয়েকজন ক্রিকেটারকে বাইরে রাখেন, যাদের মধ্যে ছিলেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভ স্মিথ ও মার্কাস স্টয়নিস। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই নিজের অধ্যায়ের ইতি টানলেন ম্যাক্সওয়েল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেও ক্রিকেট থেকে এখনই দূরে সরে যাচ্ছেন না এই অলরাউন্ডার। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন স্টারসের সঙ্গেও চুক্তি রয়েছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।

সর্বশেষ সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরুর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে চান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ